ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আতঙ্ক কাটেনি কাগমারাবাসীর

প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৬

আতঙ্কে রয়েছে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের কাগমারাবাসী। শনিবার সকালে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই জঙ্গির নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকার বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়াদের স্থায়ী ঠিকানা সংগ্রহ করাসহ তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে কাগমারা এলাকার মির্জামাঠ সংলগ্ন বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া জানান, শনিবার সকালে মির্জামাঠে গড়ে ওঠা একটি তিনতলা ভবনে ভাড়া নেয়া দুই জঙ্গি র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মির্জামাঠ সংলগ্ন দোকানি হাফেজ মিয়া জানান, শনিবার বিকেল থেকে আতঙ্কে প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে এলাকাটি। ভয়ে এলাকার লোকজন এখন প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না।

ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া সাজ্জাদ হোসেন জানান, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার মধ্যে এলাকাটি খুব শান্তিপূর্ণ ছিল। এলাকায় ছিল না কোনো মারামারি বা হানাহানি। হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সকল পরিবারের মধ্যেই এ নিয়ে অনেকটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাড়ির মালিক আজহারুল ইসলাম জানান, নিহত দুই জঙ্গি বগুড়া জেলার বাসিন্দা ও টাঙ্গাইল সরকারি সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র পরিচয় দিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই তিনতলা ভবনের নিচ তলার দুটি কক্ষ ৩ হাজার টাকায় ভাড়া নেয়। তাদের পরিচয়পত্রের ফটোকপি দাবি করলে তারা সাতদিনের মধ্যে দেবেন বলে সময় নেন।

ভাড়া দেয়ার পরে বাড়ির মালিক আজহারুল ইসলাম তাবলিগ জামাতে যান। শুক্রবার ফিরে এসে তাদের পরিচয়পত্রসহ ভোটার আইডি কার্ডের দাবি করেন। এরপর শনিবার সকালে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তারা।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, নিহত দুই জঙ্গির নাম-পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। নিহত দুই জঙ্গির সঙ্গে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, নিহত জঙ্গি সদস্যদের কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ১০টি চাপাতি ও দুটি ল্যাপটপসহ ৬৬ হাজার ৯৮৫ টাকা মামলার আলামত হিসেবে জব্দ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের মির্জামাঠ এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় দুই জঙ্গি সদস্য।

নিহতরা রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার ইউসুফ গ্রামের জোনায়েদ হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন (২২) ও একই উপজেলার নিমপাড়া গ্রামের লতিফুর রহমানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫) বলে জানায় র‌্যাব।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/আরআইপি

আরও পড়ুন