ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মানিকগঞ্জের সেই ৬ জনকে নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন

প্রকাশিত: ০২:৫৫ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

২০ বছর আগেও আনছার আলী (৬৫) গরুর গাড়ি চালাতেন। করতেন কৃষিকাজ। পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ ভালোই চলতো তার দিন। কিন্তু হঠাৎ করেই আনছারের শরীরে বাসা বাঁধে অজ্ঞাত এক রোগ। এক সময় মানুষটির হাত-পা অবশ হয়ে প্রায় পঙ্গু হয়ে যান।

আনছারের ছোট ভাই হেকমত আলী (৪৫) ঢাকায় ভ্যান চালাতেন। স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে সংসার তার। কিন্তু পাঁচ বছর আগে তিনিও আক্রান্ত হন একই রোগে। শরীর এতটাই শক্তিহীন হয়ে পড়েছে, অন্যের সহযোগিতা ছাড়া উঠতে-বসতে পারেন না। এই দুঃসময়ে স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন বাবার বাড়িত।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত আনছার আলীসহ তার পরিবারের ছয় সদস্য।

এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে মারা গেছেন আনছারের মেজ ভাই জামাল আলী। দুই ছেলে মনো (৩৫) ও বাবলু (৩০), ভাতিজা জহিরুল (১৬), ভাতিজি রুমাও (১৫) নাম না জানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় পঙ্গুত্ব জীবন-যাপন করছেন। কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন অনেক আগেই।

রোগের লক্ষণ হিসেবে আক্রান্তরা জানান, প্রথমে তাদের শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, বিভিন্ন স্থানে ফুলে যায়। এরপর ধীরে ধীরে হাত-পা অবশ হতে থাকে। মাথাও সামনের দিকে ঝুকে যায়। শরীর পুরোপুরি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে ফেলেন কর্মক্ষমতা।

শুধুমাত্র ভাতিজি রুমা ছাড়া বাকি সবাই আনছারের পরিবারেই থাকেন। আনছারের স্ত্রী ময়ূরজান বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো মতে তাদের মুখে দুইবেলা খাবার জোটান। অর্থাভাবে তাদের চিকিৎসা করাতে পারেননি।

ময়ূর বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাঁচজন মাইনষের (মানুষের) খাওয়া জুটাইবার পারি না, পিনবার মতো (পরনের) কাপড় দিবার পারি না। ওগো (তাদের) ডাক্তার দ্যাহামু ক্যামনে। কেউ তো একটু সাহায্যও করে না।’

চোখের সামনে একটি পরিবার বিনা চিকিৎসায় প্রায় শেষ হতে চললেও, পরিবারের অভিযোগ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি কেউ। তবে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে খবর পেয়ে আনছার আলীর বাড়িতে যান মানিকগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমরান আলী, শিবালয় উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলী আকবরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এসময় তারা পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

এদিকে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্তদের রোগ নির্ণয়ে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
 
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর মো. সারোয়ারকে সভাপতি ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. লুৎফর রহমানকে সদস্য সচিব করে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

শনিবার সকালে আনছার আলীসহ তার পরিবারের আক্রান্ত ছয় সদস্যকে সদর হাসপাতালে আনা হয়। এরপর মেডিকেল বোর্ড তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান।

সিভিল সার্জন ডা. এমরান আলী জানান, আক্রান্তদের রোগ নির্ণয়ের কাজ চলছে। নির্ণয় হলে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

manikgonj

হাসপাতালে এসে আক্রান্তদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস। আনছার আলীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তাসহ তাদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।

রাতে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে আনছার আলীর বাড়িতে এক বস্তা চাল পৌঁছে দেন। তিনি জানান, রোববার থেকে তাদের জন্য ডিম-দুধসহ পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

বি.এম খোরশেদ/এআরএ/আরআইপি