ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আকাশের মৃত্যুর খবর জানে না তার পরিবার

প্রকাশিত: ০৭:১১ এএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬

গাজীপুরের পাতারটেকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনার ক্রাইম (সিটিটিসি)’র অভিযানে জেএমবি ঢাকা অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার আকাশ ওরফে ফরিদুল ইসলামের মৃত্যুর খবরটি এখনও জানে না তার পরিবার।

সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক তার মা ও দুই বোন গত ৯ দিনেও জানতে পারেনি আকাশ বেঁচে নেই। পরিবার থেকে তাদের জানানোর লোকও নেই। আকাশের বাবা কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবু সাঈদও প্রায় দুই বছর হলো নিখোঁজ রয়েছে।

 তবে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুলের মরদেহ সনাক্ত করার জন্য তার এক চাচা ঢাকায় গিয়েছেন।

এদিকে, ফরিদুল ইসলাম আকাশের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুর খবরটি তার মা ও দুই বোনকে জানাতে পারছেন না সিরাজগঞ্জ কারা কর্তৃপক্ষ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।

নিহত ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ (২৫) সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ইতলী গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৫ সালে সিরাজগঞ্জের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা করেছে সে। তারা দুই ভাই, তিন বোন।

বাবা-মা তার নাম নাম রেখেছিলেন ফরিদুল। তবে জেএমবিতে যোগ দেয়ার পর সংগঠন থেকে ছদ্মনাম দেয়া হয় আকাশ। নিজ গ্রামে তাকে সবাই ফরিদুল হিসেবেই চেনে। এলাকায় সে আকাশ নামে পরিচিত নয়। শুধু নিজে নয়, জঙ্গি দলে যোগ দেয়ার পর মা ও বোনদেরও নব্য জেএমবিতে টেনেছিল আকাশ। পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আকাশের মা ও দুই বোন এখন কারাগারে।

আকাশের পুরো পরিবার জেএমবির সক্রিয় সদস্য। তার মা ফুলেরা বেগম (৪৫), তার দুই বোন শাকিলা খাতুন (১৯) ও সালমা খাতুন (১৭) জেএমবির আত্মঘাতি দলের সক্রিয় সদস্য। তার মা ও দুই বোন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে নিজেদের আত্মঘাতী সদস্য বলে স্বীকার করেছেন।

বর্তমানে আকাশের মা ও বোনেরা সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে সিরাজগঞ্জবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সিরাজগঞ্জের সচেতন মহল এটিকে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের বড় সাফল্য বলে মনে করছেন।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল বগুড়ার শেরপুরের কুঠিবাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে নিহত জেএমবির উত্তরাঞ্চলের নেতা সিরাজগঞ্জ সদরের শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামের অধিবাসী তরিকুলের হাত ধরেই জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয় আকাশ।

শায়খ আব্দুর রহমানের অনুসারী জঙ্গি নেতা তরিকুল বোমা বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার আগে বেশ কয়েকবার তিনি কাজিপুরের বরইতলা গ্রামে ফরিদুলের বাড়িতে এসেছিল। তখন আকাশ ও তার স্বজনরা তরিকুলের মাধ্যমে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যান বলে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এরপরই নব্য জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের সামরিক কমান্ডারের পদ পায় সে।

অবশেষে গত ৮ অক্টোবর শনিবার গাজীপুরের নোয়াগাঁও এলাকার পাতারটেকে জঙ্গিবিরোধী পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনার ক্রাইমের (সিটিটিসি) অভিযানে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে নিহত হয় জঙ্গি কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশ।

সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার আবুল বাশার জানান, যে কোনো ব্যক্তি তার পরিবারের কারো মৃত্যুর খবর জানার অধিকার রাখে। গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত আকাশই যে সিরাজগঞ্জের ফরিদুল ইসলাম তা কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত নয়।

এর কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। সরকারিভাবে বিষয়টি এখনও আমাদের জানানো হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আমাদের অবগত করলে আমরা অবশ্যই তার মা ও বোনদের আকাশের মৃত্যুর খবর জানাবো।

মামলার নথি ও সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশি ইউনিয়নের রাঘববাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের দুই ছেলে জেএমবির সদস্য ওমর ফারুক ও ইদ্রিস আলীকে আটক করে পুলিশ।

পরে তাদের ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের স্বাীকারোক্তি অনুযায়ী আটক করা হয় আরো ৬ জেএমবির সদস্যকে। এ ঘটনায় উল্লাপাড়া থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে (মামলা নং-১২/১৫) তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।

আটকদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে কাজিপুর উপজেলার বড়ইতলার গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে ফরিদুল ইসলাম ওরফে (জেএমবির সামরিক কমান্ডার) আকাশের নাম জড়িত থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর থেকে সে পলাতক।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশের নামসহ জেএমবির ১২ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইদুল ইসলাম। এরপর ২০ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জাফরোল হাসান জেএমবির সামরিক কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ভেরে ফরিদুলের বাড়িতে গোপন বৈঠক চলাকালে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে ফরিদুলের মা ফুলেরা বেগম (৪৫) তার দুই বোন শাকিলা খাতুন (১৮) ও সালমা খাতুন (১৬) ও প্রতিবেশী কাঠমিস্ত্রি রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া বেগমকে (৩৫) আটক করে।

এ সময় ডিবি পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে জিহাদি বই, জিহাদি তথ্য সংরক্ষিত রাখা কম্পিউটার ও কিছু ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতিও উদ্ধার করে। পরে তারা জেএমবির আত্মঘাতী দলের সদস্য বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। বর্তমানে তারা সন্ত্রাস বিরোধী ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন আরাফাত জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে. ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত জেএমবির সামরিক কমান্ডার আকাশ সিরাজগঞ্জের ফরিদুল ইসলাম। তার পরিবারের কেউ না থাকায় তার চাচা মরদেহ সনাক্ত করার জন্য ঢাকায় গিয়েছেন। তিনি আকাশের মরদেহ সনাক্ত করলে জানা যাবে আকাশই হলো ফরিদুল ইসলাম।

এসএস/এমএস