ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সরকারীকরণের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

প্রকাশিত: ১০:৩০ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৬

সরকারীকরণের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় বগুড়ার নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন। এছাড়া একই দাবিতে সোমবার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও মহাসড়কে মানববন্ধন করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৪৯ বছরের পুরনো এবং সরকারীকরণের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা এই কলেজ বাদ দিয়ে ১৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত নন্দীগ্রাম মহিলা ডিগ্রি কলেজ সরকারীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কলেজ অধ্যক্ষের ব্যর্থতার জন্যই এমনটা হয়েছে।

রোববার সারাদেশে নতুন করে ২৩টি কলেজ সরকারীকরণের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় নাম নেই নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের।

মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা বর্তমানে ১৭শ। ফলাফলও ভাল। সরকারিকরণের জন্য এলাকার সংসদ সদস্য ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির সুপারিশও ছিল। এছাড়া সরকারিকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার তালিকায় উপজেলার ক্রমিকের শীর্ষে ছিল এই কলেজ।

সবদিক থেকে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এই কলেজকে বাদ দিয়ে ৪নং ক্রমিকে থাকা ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত একই উপজেলার অন্য একটি কলেজকে সরকারি করা হয়েছে। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কলেজটি সরকারিকরণের তালিকায় স্থান পায়নি। এজন্য শিক্ষার্থীরা আমার বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, রোববার সরকারীকরণের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সোমবার সকালে কলেজে এসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় সরকারিকরণ না হওয়ার কারণ জানতে অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে সেখানে তাকে না পেয়ে তার কক্ষের দরজা জানালা ও আসবাব ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে কিছু আসবাব মাঠে এনে আগুন ধরিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

পরে বেলা সোয়া ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। একটানা বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন চলে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রিফাত, তুহিন, আরিফসহ অনেকের দাবি, সব যোগ্যতা থাকার পরও এই কলেজ কেনো সরকারীকরণ থেকে বঞ্চিত হলো অধ্যক্ষকে কলেজে এসে তা জানাতে হবে। একইসঙ্গে সরকারিকরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কলেজে ক্লাসবর্জন অব্যহত থাকবে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকারীকরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।

লিমন বাসার/এফএ/এবিএস