ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পাড়সোমবাড়ী খেয়াঘাটে পারাপার বন্ধ : জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত: ০৪:১৫ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৬

নওগাঁর বদলগাছীর ছোট যমুনা নদীর পারসোমবাড়ী খেয়াঘাটে পারাপারে নৌকা না থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বালুভরা-বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে বিপাকে পড়েছে চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

প্রকৃত ঘাট ডাককারীকে না দিয়ে দুই কর্মকর্তার যোগসাজশে ঘরোয়াভাবে নতুন ঘাটডাককারীকে ঘাট দেয়ায় এমনটি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

টোল আদায়ের সরকারি নিয়ম না মেনে পারাপারের অতিরিক্ত টোল আদায় করেন খেয়া ঘাটের লিজাকারী (ঘাট ডাককারীরা)। ফলে পারাপারে খেয়া ঘাট ডাককারীদের সঙ্গে লোকজনের কথাকাটিসহ মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। যার এক পর্যায়ে খেয়াঘাটটি এখন বন্ধ রয়েছে। সে কারণে প্রতিনিয়নত নদী পার হতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ এলাকার মানুষদের।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ১শ বছর থেকে পারসোমবাড়ী খেয়া ঘাটে নৌকা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মানুষ পারাপার হয়। চারটি ইউনিয়নের (কোলা, বিলাশবাড়ী, আধাইপুর এবং বালুভরা ইউনিয়ন) প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এ খেয়া ঘাটে নৌকা দিয়ে পারাপার হয়ে জেলা শহর নওগাঁয় যাওয়া-আসা করেন।

সপ্তাহে দু’দিন পারসোমবাড়ী হাট বসে। স্থানীয়দের উৎপাদিত শাকসবজি ও ধানসহ অন্যান্য ফসল নদীপার হয়ে বাজারে বিক্রি করতে আসতেও দুর্ভোগে পড়তে হয়ে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সময়মতো নদীপার হতে না পেরে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারেনা।

গত বছর বৈশাখ মাসে (২০১৫ সালে) ফারুক হোসেন নামে স্থানীয় এক খেয়া ঘাটডাককারীকে ভ্যাটসহ প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য লিজ দেয়া হয়েছিল।

পরের বছর সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ শুরু হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী খেয়াঘাটটি খাস হয়ে যায়। যার নিয়ম হল ভূমি অফিস থেকে খেয়া ঘাটে মানুষ পারাপার করতে হবে।

পরের বছর বৈশাখ মাসে আবার ফারুক হোসেন এক মাসের জন্য ৬ হাজার টাকা দিতে চায় কিন্তু প্রশাসন উন্মুক্তভাবে কোনো ডাক না দিয়ে ১০০ টাকা বেশি দেখিয়ে এক মাসের জন্য শেখর হোসেন, ফুলবর, মুকুল ও মিজানকে ৬ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে খেয়াঘাট লিজ দেয়।

পরে ফারুক হোসেন বিষয়টির প্রতিবাদ করে উন্মুক্ত ডাক দিতে বললেও তা আর করা হয়নি। একইভাবে পরের তিন মাসের জন্য আবারো তাদের ১৮ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে লিজ দেয়। শেষ তিন মাসের জন্য তাদের ১৮ হাজার টাকা দিয়ে লিজ দেয়।

সরকারি নিয়মে মানুষ ১ টাকা, সাইকেল ১ টাকা, মোটরসাইকেল ১ টাকা থাকলেও তারা জোরপূর্বক আদায় করেন মানুষ ৫ টাকা, সাইকেল ৫ টাকা, মোটরসাইকেল ১০ টাকাসহ অপরিচিতদের কাছ থেকে ১০/২০ টাকা।

আশ্বিন মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ হতে সরকারি মূল্যে টোল আদায় করতে নির্দেশ দিলে গত ১৫ দিন আগে মেয়াদ থাকা শর্তেও পারাপার বন্ধ করে দেয়।

Naogaon

ছোট যমুনা নদীর উপর পারসোমবাড়ীতে একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছে। ব্রিজটি সম্পন্ন হতে এখন প্রায় চার-পাঁচ মাসের মতো সময় লাগতে পারে। নৌকা না থাকায় অসম্পন্ন ব্রিজের উপর দিয়ে লোকজনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। তাদের কাজের সুবিধার্থে ব্রিজ নির্মাণ শ্রমিকরা একটি কাঠের সিঁড়ি করেছেন।

নদীতে নৌকা না থাকায় লোকজন ওই সিঁড়ি বেয়ে কষ্ট করে পারাপার হচ্ছেন। অনেকে ব্রিজের এ পার থেকে সাইকেল ঘাড়ে করে নিয়ে ওপার যাচ্ছেন। যারা মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছেন তাদের মোটরসাইকেলটি নদীর পাড়ে রেখে অথবা ৯ কিলোমিটার ঘুরে পারসোমবাড়ী বাজারে কাজ শেষ করে ফিরতে হচ্ছে।

নদীতে নৗকা না থাকায় কষ্ট করে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন নওগাঁ শহরের খাস নওগাঁ থেকে আসরাফ ও জসিম উদ্দিন। তারা বলেন, নদীতে পারাপারের নৌকা না থাকায় সবাই এই কাঠের সিঁড়ি দিয়ে পার হচ্ছেন। তাদের দেখে আমরাও পার হচ্ছি। কারণ ব্রিজের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ব্রিজের উত্তর পাড় থেকে সাইকেল ঘাড়ে করে নিয়ে দক্ষিণ পাড়ে পার হচ্ছিলেন উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের বাবু। তিনি বলেন, নৌকা দিয়ে পারাপারে টাকা বেশি আদায় করতো। যার জন্য মানুষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এজন্য আর ঘাটে নৌকা নেই। মানুষদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঘাটডাককারী শেখর হোসেন বলেন, সরকারি নিয়মে টোল আদায় করে খেয়া ঘাট চালানো সম্ভব নয়। বেশি টাকা টোল আদায় করলে ইউএনও স্যার ভ্রাম্যমাণ আদালত দেয়ার কথাও বলেছেন। ঘাটে মানুষ পারাপারও কমে গেছে। কষ্ট করে ব্রিজের উপর দিয়ে পার হচ্ছেন। সবদিক বিবেচনা করে ঘাটে আর পারাপার করা হচ্ছে না।

বালুভরা-বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রঞ্জু আলম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একা মানুষ আমি। অফিস করবো না খেয়া ঘাট দেখবো। দলীয় চাপে পড়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে বসে খেয়াঘাটটি লিজ দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে যা আয় হয় তা রাজস্ব খাতে জমা হয়।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন শওকত বলেন, সরকারি রেটে টোল আদায় করতে বলায় ওরা পারাপারে অপারগতা দেখিয়েছে জন্য খেয়াঘাট বন্ধ রয়েছে। আর এখানে প্রশাসনের কিছুই করার নেই।

অপর প্রশ্নে তিনি বলেন, কোনো প্রকার অনিয়ম করে খেয়াঘাট লিজ দেয়া হয়নি। রবং শেখর হোসেন বেশি টাকা ডাক দিয়েছিল বলে তাদের দেয়া হয়েছে।

আব্বাস আলী/এসএস/পিআর