ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিক্রেতা ছাড়াই চলছে দোকান

প্রকাশিত: ০৬:১৯ এএম, ২২ অক্টোবর ২০১৬

সমাজে যখন সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় চলছে তখনই ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মোহাম্মদপুর গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান-ই-হাবিব।

দোকানির পরিবর্তে একটি কাগজে পণ্যের মূল্য তালিকা লিখে তা পণ্যের ঝুড়িতে লাগানো আছে। প্রয়োজনীয় পণ্যটি সংগ্রহের পর নিজ দায়িত্বেই দাম পরিশোধ করে শিশুরা। তাতে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, পেন্সিল কাটার, বিস্কুট সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রত্যেক ঝুড়িতে পণ্যের দাম লিখে সেখানে একটা কৌটা রাখা আছে। শিশুরা আসছে, যে যার দরকার মতো ঝুড়ি থেকে খাতা, কলম, পেন্সিল বা রাবার তুলে নিয়ে কাগজে লেখা দাম দেখে ওই কৌটার মধ্যে নির্দিষ্ট টাকা (দাম) ফেলে চলে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, এটা কোনো দোকান নয়, এটা শিশুদের সততা চর্চার একটা কেন্দ্র।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায় টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে খাতা, পেন্সিল, কলম, জ্যামিতি বক্স, বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্য। দোকান আছে, ক্রেতাও আছে কিন্তু নেই শুধু বিক্রেতা। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের ইচ্ছা মতো পণ্য নিচ্ছে আর দাম পরিশোধ করছে।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ শিক্ষা পণ্য কেনার ব্যতিক্রমী দোকান চালু করা হয়। এই দোকানে কোনো বিক্রেতা নেই।

স্কুলের শিক্ষক ও দোকানটির দেখভালকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট প্রধান শিক্ষক আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়ে একটা সভা করেন। সেখানে তিনি শিশুদের মধ্যে সততার বোধ জাগানোর জন্য ‘গুডনেস সপ’ নামে এই দোকান চালুর ঘোষণা দেন। ওই দিনই খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, পেন্সিল কাটার, বিস্কুটি এয়ে দোকানটি চালু করা হয়।

এই দোকানে কেনা দামেই সব জিনিসের দাম ঠিক করা হয়েছে। কোনো লাভ করা হয় না। বিক্রয় হওয়ার পরে জমা টাকা দিয়ে আবার নতুন করে পণ্য কিনে আনা হয়।

দোকান থেকে স্কেল কিনতে আসা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লিয়া বলে, বাইরের দোকান থেকে এ দোকানে দাম কম। তাছাড়া কেউ টাকা চাচ্ছে না, আমি নিজেই টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছি। এজন্য আমার খুব মজা লাগে।

Thakurgaon

বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম, রনি, আসমা, মনিরুজ্জামান এবং রিচি আক্তার বলেন, আমাদের ক্ষুধা লাগলেই এখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিস্কুট কিনে এর মূল্য বাক্সে রেখে দেই। এখানে বাকিতে পণ্য নেয়ার সুযোগ নেই।

যদি টাকা না থাকে তাহলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ধার নিয়ে খাবার কেনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া এখানে কাগজ, কলম, স্কেল বাইরের থেকে অনেক কম দামে পাওয়া যায়। বাইরের থেকে এখানে পণ্যের দাম ২-৩ টাকা কম।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান-ই-হাবিব বলেন, এই দোকানের মাধ্যমে শিশুদের সততা ও সত্যবাদিতা শেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, এটা ভবিষ্যতে তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, মূলত শিক্ষার্থীদের লোভ সংবরণ, সৎ, আদর্শবান এবং একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এই দোকানটি খোলা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহাগ বলেন, এ ধরনের মহতী ও ব্যতিক্রম উদ্যোগের ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শাহিন আক্তার জানান, এই ধরনের চিন্তা-চেতনা শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এসএস/এমএস