ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

মাঠের মাঝে সেতু

প্রকাশিত: ০৫:২৯ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেতু নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু নির্মাণ না করা হলেও মাঠের মাঝখানে নির্মাণ করা হয়েছে সেতু।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বুল্লাই নদীর বসুনিয়াপাড়া খালের উপর দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর দাবি করে আসছে রনচন্ডি ইউনিয়নের বসনিয়াপাড়া ও রনচন্ডি গ্রামের হাজারো মানুষ। কিন্তু দীর্ঘদিনে তারা সেতু না পাওয়ায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

অথচ উপজেলায় ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২ কোটি ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭০ টাকা ব্যয়ে ৭টি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ৭টি সেতু যেসব স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে সে সকল স্থানে নেই রাস্তাঘাট বা মানুষজন চলাচলের কোনো পথ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামীণ রাস্তায় (১২ মিটার) দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৭টি সেতু নির্মাণ করা হলেও সেতুগুলো জনসাধারণের চলাচলে কোনো উপকারে আসছে না।

সেতু নির্মাণ করা হয়েছে জনবসতিহীন ফাঁকা স্থানে। নেই কোনো চলাচলের সংযোগ সড়ক বা চলাচলের পথ। পাশাপাশি এতো নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে যে এই সেতুগুলোর উপরিভাগের সব কিছু খসে পড়তে শুরু করেছে। অথচ ঠিকাদারদের চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে।  

এলাকার আমিনুল ইসলাম, মফিদুল ইসলাম, আজগর আলী মন্তব্য করে বলেন, এসব সেতুর নির্মাণের নামে সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।  অথচ বসুনিয়া পাড়ার বুল্লাই নদীর খালের সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও শিক্ষার্থীচলাচল করছে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামারপাড়া থেকে ইসমাইল পাড়া যাওয়ার রাস্তায় ইসমাইলের দোলায় ৪০ ফিট সেতু ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকায় মের্সাস মিনারা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে। সেখানে কোনো চলাচলের রাস্তা নেই। অথচ সেতু তৈরি করা হয়েছে।

এমন আরো ৬টি সেতুর মধ্যে মাগুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া নিজাম উদ্দিনের বাড়ির পূর্বদিকে বুল্লাই নদীর উপরে  ৪০ ফিট সেতু নির্মাণ করা হয় ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকায়।

Kisair

পুটিমারী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ভেড়ভেড়ি গ্রামের সালামের মোড় থেকে সাতপাই যাওয়ার রাস্তায় জমসের মাস্টারের বাড়ির সামনে ৪০ ফুট সেতুটিও ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকায় নির্মাণ দেখানো হয়। ঠিকাদার ছিলেন নুরজাহার এন্টারপ্রাইজের পক্ষে মিনহাজুল ইসলাম।

আবার বাহাগেলী ইউনিয়নের নয়ালখাল ডাঙ্গারহাটে ধনীর উদ্দিনের বাড়ির পশ্চিমে ৩৪ ফুট সেতু নির্মাণ করা হয় ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৬ টাকায়। ঠিকাদার ছিলেন নুরজাহার এন্টারপ্রাইজের মিনহাজুল ইসলাম।

নিতাই ইউনিয়নের ইউপি পরিষদ থেকে খাতা মধুপুর ইউনিয়ন যাওয়ার রাস্তায় শিষারতলী যাওয়ার দোলার পানি নিষ্কাশনের জন্য ৩৪ ফিট সেতু নির্মাণ করা হয় ২৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৬ টাকায়। ঠিকাদার ছিলেন মের্সাস রাশেদ এন্টারপ্রাইজ।

মাগুরা ইউনিয়নের কামারের হাটে বুল্লাই নদীর উপর ৪০ ফুট সেতু ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকায় নির্মাণে ঠিকাদার ছিলেন মেসার্স এমকো এন্টারপ্রাইজ।

নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ালপুকুর গুয়াপাড়া ত্রিপুতি থেকে মুশরত পানিয়াল পুকুর বেলতলী রাস্তায় গেন্দুর বাড়ির সামনে ডাঙ্গায় ২০ ফুট সেতু নির্মাণ করা হয় ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৬ টাকায়। ঠিকাদার ছিলেন নাছিমুল একরাম। এই ৭টি সেতু নির্মাণে সর্বমোট ব্যয় দেখানো হয় দুই কোটি ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭০ টাকা।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জলঢাকা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা মোয়াজ্জেম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ওই সব সেতু নির্মাণের প্রকল্প ও চূড়ান্ত বিল প্রসঙ্গে আমার কিছু জানা নেই। আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন সাইফুল ইসলাম তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে চলে গেছেন।

নীলফামারী ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

জাহেদুল ইসলাম/এসএস/এমএস