এখনো মাঠে নামেনি সম্ভাব্য প্রার্থীরা
আসছে ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের নিয়ে চলছে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে অনেকে দলীয় ফোরাম ও বন্ধুমহলে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউই এখনো মাঠে নামেননি।
তবে দলীয় নানা কর্মসূচিতে নিজেদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন আগের চেয়ে বহুগুণ। অনেকেই আবার দলের নীতিনির্ধারকদের ম্যানেজ করতে ঢাকায় দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ছয়জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো প্রার্থীর নাম এখনো শোনা যায়নি। জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তারা কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাননি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত পেলেই মাঠে নামবেন তারা।
এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচন আদৌ দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে কিনা- সেটি স্পষ্ট করে বলতে পারছে না জেলা আওয়ামী লীগ। দলীয়ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে জেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ এক নেতা।
তবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ছয় প্রার্থীর নাম মাঠে ছড়িয়ে পড়েছে। এরা হলেন- জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শাহআলম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু ও সরাইল উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মোবারক হোসেন।
নিজের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার জাগো নিউজকে বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে দল চাইলে তিনি চেয়ারম্যান পদে লড়বেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তিনি কিছু করবেন না।
আরেক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, যদিও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। তারপরও আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে দলের সমর্থন চাইবো। দলীয় সমর্থন যদি না পাই, তাহলে সেটি পরে দেখা যাবে।
এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিছকই গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহআলম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি কেবলই গুঞ্জন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই আমার।
নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদি দলীয়ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয় সেক্ষেত্রে প্রার্থী মনোনয়নে আমাদের দলীয় কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে কেন্দ্র থেকে দলীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বলা হলে কেউ যদি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে, নির্বাচন নিয়ে খুব একটা মাথা ব্যথা নেই জেলা বিএনপির। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জাগো নিউজকে বলেন, দেশে কোনো নির্বাচন নেই, সব প্রহসনের নির্বাচন। তবে বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। জেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে দলে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আমরা পাইনি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত দেয়া হলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে নামার নির্দেশনা দেয়া হবে।
এফএ/আরআইপি