স্বপ্ন ভেঙেছে আশাশুনির হাজারো মানুষের
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কোলা ইউনিয়নের হাজারো মানুষের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। রাতের আধারে খোলপেটুয়া নদীর ৫০ হাত বাঁধ ভেঙে নিমেশে মানুষের স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্নে রুপ নেয়। স্থানীয় হাজার হাজার গ্রামবাসী টানা ৬দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর বাঁধটি মেরামত করতে সক্ষম হয়।
তবে এই দিনগুলোর মধ্যে ভেসে গেছে মানুষের ফসলি জমি, মাছের ঘের। বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে কাচা ঘরবাড়ি। শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে ১৫ অক্টোবর শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার অনেকটাই সকলের দৃষ্টিতে আসে না।
বর্তমানে সেসব এলাকার পানি কমলেও বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। কাচা-পাকা রাস্তাগুলো যেন আস্ত নেই। পিচ উঠে ইট আর খোয়াগুলোও বানের পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব, সুপেয় খাবার পানির। নেই স্যানিটেশন ব্যাবস্থাও।
মানুষের এসব দুর্ভোগের চিত্র গত বুধবার পরিদর্শন করেন জাতীয় নদী কমিশনের সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মো. আলাউদ্দিন।
তিনি আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে জানান, মন্ত্রীসভার বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল জাগো নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের টানা বৃষ্টিতে কোলা ইউনিয়নের আবারো চারশ’ ফুট বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা বলছেন, আমাদের কাছে কোন অর্থ নেই। নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ভাঙনরোধ করেন।
সরকারিভাবে কোন পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন না অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, আমার এলাকায় ১৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারিভাবে ১০টন জিআর চাল দেয়া হয়েছে। আমি নেয়নি কারণ ১৫ হাজার মানুষের মাঝে দুই কেজি করে চাল কিছুই হবে না। তিনি এই বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান।
রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশাশুনি-ঘোলা যোগাযোগ মাধ্যম প্রায় ৩ কিলোমিটার পাকা রাস্তাটি একেবারেই ক্ষতিগ্রস্ত। তাছাড়া পাকা-কাচা ও ইটের রাস্তা সব মিলিয়ে ১৮টি রাস্তার চিহ্ন নেই। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
এসব বিষয় জানার পর জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে কথা বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে নদী কমিশন থেকে এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত সচিব। তিনি দুর্ভোগের এসব চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন। আশা করছি বরাদ্দ পেলে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর কাজ শুরু করতে পারবো।
আকরামুল ইসলাম/এএম/এমএস