২১শ যাত্রী নিয়ে স্পেশাল ট্রেনের ভারতে যাত্রা
ভারতের মেদিনীপুর জোড়া মসজিদে ১১৪তম পবিত্র ওরশ শরীফ উপলক্ষে ২১শ ওরশ যাত্রী নিয়ে স্পেশাল ট্রেন ভারতের মেদিনীপুরে যাচ্ছে। আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া রাজবাড়ীর উদ্যোগে রোববার রাত ১০টায় রাজবাড়ী রেলস্টেশন থেকে ২২টি বগি নিয়ে এ ট্রেন যাত্রা করবে। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথভাবে ১৯০২ সাল থেকে এই ওরশ স্পেশাল ট্রেনটি চলাচলের ব্যবস্থা করে আসছে।
আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া রাজবাড়ীর সভাপতি ও ওরশ স্পেশাল ট্রেন লিডার কাজী ইরাদত আলী জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মেদিনীপরে নূরনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ৩৩তম ও গাউস উল আযম বড় পীর সৈয়দানা হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (আঃ) পাক এর ২০তম অধস্তন পবিত্র বংশধর হযরত আলী আব্দুল কাদের সামশুল কাদেরী সৈয়দ শাহ মোরশেদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী (আঃ) মশহুর নাম “মওলাপাক” এর ১১৪তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ শরীফ ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জোড়া মসজিদ মির্জামহল মেদিনীপুরে উদযাপিত হবে।
পবিত্র ওরশ শরীফ পরিচালনা করবেন, রাসুল পাকের (সাঃ) ৩৬তম ও গাউস-উল আযম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (আঃ) পাক এর ২৩তম অধস্তন আওলাদপাক জিলে ইলাহী, বেলায়েত রবি, গাউসে জামান লাখো ভক্তের আকা ও কেবলা কাদেরীয়া তরীকার সজ্জাদানশীন বড় হুজুরপাক হযরত সৈয়দ শাহ্ রশিদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরী।
তিনি আরো জানান, আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরবর্তিতে ভারতের ভিসা সহজিকরণের জন্য ভারত সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন। ওরশ শরীফ খানকায়ে কাদেরীয়া বড় মসজিদ, রাজবাড়ীতেও অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে “বড় হুজুরপাক” কেবলা পরিচালিত আঞ্জুমান-ই-কাদেরীয়া, রাজবাড়ীর উদ্যোগে ২২টি বগি সম্বলিত মেদিনীপুর ওরশ স্পেশাল ট্রেনে পুরুষ ১৩০১ জন, মহিলা ৭০৮জন, শিশু ৮৫ জনসহ মোট ২০৯৪ জন ওরশ যাত্রী নিয়ে রোববার রাত ১০টায় কাজী ইরাদত আলী সভাপতি, আঞ্জুমান-ই- কাদেরীয়া (ট্রেন লিডার), রাজবাড়ী এর নেতৃত্বে রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন হতে ভারতে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
পবিত্র ওরশ শরীফ শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি ওরশ স্পেশাল ট্রেনটি রাজবাড়ী ফিরে আসবে।
প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরও মেদিনীপুর শহরে মির্জামহল্লা জোড়া মসজিদ প্রাঙ্গন ও দায়রাপাকে সুফি সাধক হয়রত সৈয়দ শাহ মুরশেদ আলী আল কাদেরীর ১১৪তম বার্ষিক ওরশ উৎসব মহাসমারোহে পালিত হবে। দু’দিন ব্যাপী এই উৎসব চলবে ১৭ এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি।
১৯০১ সালের ১৭ ফেব্রয়ারি বেসাল শরীফের (তিরোধান) পর থেকেই প্রত্যেক বছর এই পবিত্র ওরশ পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে তার প্রপৌত্র বর্তমান সজ্জাদানশীন ও স্থলাভিষিক্ত বড় হুজুর পাক নামে খ্যাত হয়রত সৈয়দ শাহ্ রশিদ আলী আল কাদেরী আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী আল বাগদাদী আল মেদিনীপুরীর উপস্থিতিতে ও পরিচালনায় সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। মাজার শরীফ জিয়ারত এবং বড় হুজুর পাক এর দর্শন লাভের আকাঙ্খায় দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সমবেত হয়।
উল্লেখ্য, আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর আগে ইরাকের বাগদাদ শরীফ থেকে তার পূর্ব পুরুষগণ ভারত বর্ষে তশরিফ আনেন। পরবর্তিতে বিহারের পূর্ণিয়া, বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট মেদিনীপুরে অবস্থান করেন। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ১৮৫২ সালের ১৬ জুলাই এবং বাল্যকাল থেকেই তার অসাধারণত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। মেদিনীপুরের ইস্ত্রিগঞ্জ ও গোপ পাহাড়ে চলে তার কঠোর আধ্যাতিক ধর্মীয় সাধনা তিনি সারা জীবন কৃচ্ছ সাধনার মাধ্যমেই জীবন অতিবাহিত করেন।
উপ-মহাদেশের বহু স্থান তিনি ভ্রমণ করেন এবং সমকালের সমস্থ ওলী তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেন। বাংলা ও তার বাইরে থেকেও সমুদ্র তরঙ্গের মতো মানুষ তার সানিধ্য লাভের আশায় ছুটে আসতেন। যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম, দুষপ্রাপ্ত ও অমূল্য ধর্মীয় গ্রন্থের যে বিশাল ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে তোলেন তা কুতুবখানা নামে পরিচিত। যাহা আজও মেদিনীপুর ২২ নম্বর খানকা শরীফে রক্ষীত আছে। তিনি সে যুগের অন্যতম কবিও ছিলেন। উর্দূ ভাষায় তার লেখা কাব্য গ্রন্থ দেওয়ান পাক অমূল্য সম্পদ।
এমএএস/আরআই
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন
- ২ শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে শিবিরের বিক্ষোভ
- ৩ ময়মনসিংহ বিএনপি-বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ-গুলি
- ৪ তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করায় দিনাজপুরে যুবক গ্রেফতার
- ৫ দিনাজপুরে ৫-৬ লাখ লোক জমায়েতের প্রস্তুতি জামায়াতের