ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম দৃষ্টান্ত কালিহাতী

প্রকাশিত: ০৪:৫৮ এএম, ০৫ নভেম্বর ২০১৬

টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে গ্রামীণ অবকাঠামোর নজির বিহীন উন্নয়নে দেশের দৃষ্টান্ত এখন কালিহাতী। টাঙ্গাইল জেলার উল্লেখযোগ্য উপজেলা কালিহাতীতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত টিআর এবং কাবিখা কর্মসূচির ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭ হাজার ১৫৪ টাকার প্রকল্পে ব্যাপক গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।

উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের বাসস্থান নির্মাণ, সোলার প্যানেল স্থাপন এবং স্থাপনা ও রাস্তাঘাটের সংস্কারসহ উন্নয়ন কাজে এ বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর ফলে এলাকার সাধারণ জনগণ উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

কালিহাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ টেস্ট রিলিফের (টিআর) ১১৫ প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭৭ টাকা এবং কাজের বিনিময়ে টাকার (কাবিটা) ৩০টি প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭৭ টাকা মোট ১ কোটি ৭৫ লাখ ৭ হাজার ১৫৪ টাকা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোটায় বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু টাঙ্গাইল ৩ আসন কালিহাতীতে সংসদ সদস্য না থাকায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকল্পগুলো সমন্বয় ও বাস্তবায়ন করেন।
 
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্নস্থানে দেখা যায়, বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর ব্যবহারের ফলে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও লেগেছে উন্নয়নের নজরকাড়া ছোঁয়া। টিআর-কাবিটা প্রকল্পের ফলে পাল্টে যাওয়া কালিহাতীর গ্রামীণ চিত্রের কথা স্বীকার করছেন উপজেলার সুবিধাভোগী সাধারণ জনগণ।

এ উপজেলার টিআর প্রকল্পের আওতায় দশকিয়া ইউনিয়নের ঢোলকান গ্রামের মৃত আব্দুল গফুর মন্ডলের হতদরিদ্র ছেলে  প্রতিবন্ধী কদম আলী, সহদেবপুর ইউনিয়নের টেরকি গ্রামের মৃত গোবিন্দ পালের হতদরিদ্র ছেলে প্রতিবন্ধী সাধন পাল ও একই এলাকার মৃত মধাব চন্দ্রের হতদরিদ্র ছেলে রাজেন্দ্র (মঙ্গল সাধু), কালিহাতী পৌরসভার সালেংকা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী লায়লা বেগমকে ৪০ হাজার ৭৫০ টাকা করে দিয়ে থাকার ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ৫০ হাজার টাকায় বাংড়া ইউনিয়নের ইছাপুরে বিএম কলেজের সংস্কার এবং সোলার প্যানেল স্থাপন, কালিহাতীর উত্তোরণ শিল্প গোষ্ঠীর কার্যালয়ে এবং নারিন্দায়া ইউনিয়নের কুরুয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী আজিজুর রহমানের বাড়িতে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা করে সোলার প্যানেল প্রদানসহ টিআর প্রকল্পের অধীনে উপজেলায় মোট ৯৪ টি সোলার প্যানেল স্থাপন এবং ২১টি উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে।

school

এদিকে কাবিখা প্রকল্পে গড়িলাবাড়ী মসজিদ উন্নয়ন এবং সংস্কার কাজে ৩ লাখ টাকা, সল্লা ইউনিয়নের নরদহি কালী মন্দিরে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকার, এলেঙ্গা পৌরসভার জিতেন্দ্র বালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার টাকার, বল্লা সাধারণ পাঠাগারে ৭০ হাজার টাকার, জাবরাজান বিএইচ দাখিল মাদরাসায় ৫০ হাজার টাকার এবং কালিহাতী পৌরসভার ভূইয়া কামার্থীর আনসার আলীর হতদরিদ্র ছেলে প্রতিবন্ধী নূরন্নবী খানের বাড়িতে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকার সোলার প্যানেল স্থাপনসহ কালিহাতীতে মোট ১৪টি প্যাকেজে ৭০টি সোলার প্যানেল স্থাপন এবং ১৬টি উন্নয়ন মূলক কাজ হয়েছে।

এছাড়াও কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে শহীদ শফি সিদ্দিকী চত্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ এবং বেতডোবা মেঘাখালি নদীর পাড় প্যালাসাইডিং ও মাটি ভরাটের কাজও রয়েছে চলমান।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা লায়লা বেগম (২৫) বলেন, আমি ৫ বছরের পোলা নাজু এবং ৬০ বছরের বুড়া মারে নিয়া ভাঙা পাট খড়ির ছাপড়া ঘরে থাকতাম। ঘরে বৃষ্টির পানি আইতো, শীতে খুব ঠাণ্ডা লাগতো। এতে খুব কষ্ট অইতো। ইউএনও স্যার নতুন টিনের ঘর বানাইয়া দিছে। এহন ঘরে আর পানি পড়ে না। আমরা এহন শান্তিতে ঘুমাই।

যমুনা নদীর তীরবর্তী গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের গড়িলাবাড়ী মসজিদ উন্নয়ন ও সংস্কার কমিটির দায়িত্বশীল অনেকেই বলেছেন, সরকার থেকে ৩ লাখ টাকা পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষেরা এখন মসজিদে ভালভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন।
 
নরদহি কালীমন্দির কমিটির সভাপতি বাবুল বোস বলেন, রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি কিংবা দোয়াত জ্বালিয়ে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতাম। এতে অনেক অসুবিধা হতো। উপজেলা থেকে সোলার লাগিয়ে দেয়ায় বিদ্যুৎ চলে গেলেও এখন কোনো অসুবিধা হয় না। এ নিয়ে মন্দিরের ভক্ত ও পূজারীরা অনেক খুশি।

উপজেলা স্কাউট কমিটির সম্পাদক শুকুর মাহমুদ জানান, আমাদের স্কাউট ভবনের আঙিনা সম্প্রসারণের জন্যে ৩ লাখ ২১ হাজার ২৮৯ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আমরা আঙিনা ভরাট করার পর অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ভবনের দুইতলার কাজ করছি। এখানে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয় স্থাপন করা হবে। সেইসঙ্গে একটি জিমনেসিয়ামের সকল উপকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

school

কালিহাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন সরকার বলেন, আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রকল্পগুলোর কাজ দেখেছি। প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগ কাগ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবেভাবে সম্পন্ন হয়েছে আর কিছু কাজ চলমান রয়েছে।
 
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াস হত দরিদ্রদের বাসস্থান নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ জনপদে অন্ধকার দূরীকরণ এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়ন। এরই ফলশ্রুতিতে কালিহাতীতে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে ও উপজেলা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়নে প্রকল্পের উক্ত কাজগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, শেখ হাসিনার আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার ভিশন বাস্তবায়ন কল্পে এ প্রকল্প বা অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কালিহাতী উপজেলাকে আলোকিত করতে টিআর কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে হত দরিদ্র পরিবার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং বিভিন্নস্থানে রাস্তাঘাট-স্থাপনা নির্মাণ, উন্নয়ন-সংস্কার কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তবে একটি চক্র সরকারের এ উন্নয়ন কার্যক্রম ও উপজেলার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে কাল্পনীক অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এফএ/এমএস