সাতক্ষীরায় ১০ টাকার চাল পাচ্ছেন কলেজ অধ্যক্ষসহ বিত্তবানরা
সাতক্ষীরার কাশিমাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাই। ভাগ্যবান অধ্যক্ষ বটে। তাইতো সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকার চালের কার্ড পেয়েছেন তিনি। কার্ড নম্বর-১২০৩। শুধু আব্দুল হাই নয় কাশিমাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফের ভাই ঘের ব্যবসায়ী হান্নানও পেয়েছেন এই কার্ড।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শাজাহান ও ঘের ব্যবসায়ী হুমাউন। এছাড়া রয়েছে নাশকতা মামলার আসামি। এই কার্ড দেয়া হয়েছে কোটিপতির ছেলে আক্তার ফারুকের স্ত্রী শামিমা আক্তার রানীকেও। এভাবেই ১০ টাকার চালের তালিকায় অনিয়ম করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কাশিমাড়ি ইউপির ৮নং সদস্য আব্দুস সবুর মোল্লা, মহিলা সদস্য পাপিয়া হক ও মহিলা সদস্য সীতা রানী বৈদ্য এমন অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন ৭নং ওয়ার্ড সদস্য শাহাবাজ আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, কাশিমাড়ি ইউনিয়নে দুঃস্থদের বাদ দিয়ে ধনী, বিত্তশালী, চাকরিজীবী ও চেয়ারম্যানের আত্মীয়-স্বজনদের ১০ টাকার চালের কার্ড দেয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে অরসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, নাশকতা মামলার আসামি, বাদ যায়নি চেয়ারম্যানের ভাই, ভগ্নিপতিরাও।
চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফ তার ইচ্ছা মতো এই কার্ডের তালিকা তৈরি করেছেন। ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ ধনী মানুষ এই কার্ড পেয়েছেন।
চেয়ারম্যানের এসব কাজে সহায়তা করেছেন মহিলা মেম্বার রওশন আরা বিথি। সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে বহিষ্কারের দাবি জানান চার ইউপি সদস্য।
চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম জাগো নিউজকে জানান, ট্যাগ কর্মকর্তা বলেছেন কার্ডের তালিকায় ত্রুটিগুলো ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকতে পারে। তাছাড়া বিষয়টি তদন্ত চলছে।
আকরামুল ইসলাম/এআরএ/আরআইপি