ভিডিও EN
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

খুলনায় থানা কমিটিকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে উত্তেজনা

প্রকাশিত: ১২:৩২ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৬

খুলনা মহানগর বিএনপির থানা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মত-পার্থক্যের কারণে ইতিমধ্যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

নেতাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, সঠিকভাবে সম্মেলন এবং কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন না হলে হাতাহাতির ঘটনা শেষ অবধি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।

এদিকে খুলনা বিএনপির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেছেন, কেন্দ্র থেকে থানা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশনা আছে। তা উপেক্ষা করেই থানা কমিটির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালের পর খুলনা মহানরগ ও জেলা বিএনপির আর কোন সম্মেলন হয়নি। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া কমিটি দিয়েই চলছে নগর ও থানা কমিটিগুলো। ফলে নেতৃত্বের আসনে বসতে আগ্রহী নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রামেও তেমন একটা আংশ গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখাননি।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের প্রথম দিকে খুলনা মহানগর বিএনপির সম্মেলন সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সেই অনুযায়ী নগরীর সব ওয়ার্ড এবং একটি ইউনিয়নের কমিটি গঠন করা হয়।

ওয়ার্ড কমিটি গঠনের পর থানা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা স্থগিত হয়ে যায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য। সেই নির্বাচন শেষ হতে না হতেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে নগর ও থানা পর্যায়ের কমিটি গঠন একেবারেই থেমে যায়। এরপর এক নেতার এক পদকে কেন্দ্র করে করে শুরু হয় নতুন নাটক। ফলে কমিটি গঠণের বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যায়।   

সাধারণ নেতাকর্মীরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে যাদের দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী না। সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগও খুব কম। এখন আবার থানা কমিটিও সেইভাবে গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তাদেরকে নিয়েই।

সূত্র জানায়, গত ৫ নভেম্বর নগরীর খালিশপুর থানার কমিটি গঠনের প্রস্তুতি সভায় নেতাকর্মীরা এর বিরোধীতা করেন।
তারা অভিযোগ করে বলেন, ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সময় পকেট থেকে নেতৃবৃন্দ নাম লেখা কাগজ বের করে কমিটি ঘোষণা করেছেন। সেসময় কোন কাউন্সিলের ধার ধারা হয়নি। এখনো পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে। যা সাধারণ নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। এতে দলের মধ্যে সংঘর্ষ সংঘাত আরো বাড়বে।

এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং খালিশপুর থানার সাধারণ সম্পাদক এস এম আরিফুর রহমান মিঠু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মহানগর বিএনপি নেতাদের একনায়কত্ব ও কর্তৃত্বপরায়নতা চলছে খালিশপুর থানায়। তৃণমূলের ত্যাগি-পরীক্ষিত কর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়ার মনোবৃত্তি কাজ করছে তাদের মধ্যে। ওই প্রক্রিয়ায় ওয়ার্ড কমিটি গঠনের পর এবার পকেটের লোকদের কাউন্সিল বানিয়ে থানা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠানের পায়তারা চলছে। মাঠের কর্মীরা অগণতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিরোধিতা করেছে। তারা কোনভাবেই এ সিদ্ধান্ত মানবে না।

তবে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠনে কোন অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মেনেই সব কিছু করা হয়েছে। এখন যারা এর বিরোধীতা করছে তাদের অবস্থান দলে অত্যন্ত নড়বড়ে। তবে থানা কমিটি গঠনে কেন্দ্রের স্থগিতাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

আগামী ১৮ নভেম্বর সোনাডাঙা থানা, ১৯ নভেম্বর সদর থানা, ২৪ নভেম্বর দৌলতপুর থানা এবং ২৫ নভেম্বর খানজাহান আলী থানার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া খালিশপুর থানার সম্মেলনের তারিখ স্থগিত রাখা হয়েছে।

আলমগীর হান্নান/এএম/পিআর