সংসার করা হলো না কাকুলীর
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার রায়পুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সুকমল মন্ডলের মেয়ে কাকুলী। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে গৃহশিক্ষক একই গ্রামের মৃত অনন্ত সরকারের ছেলে শিশির সরকারের প্রেমে পড়ে। তারপর সবার অজান্তে বিয়ে করে দুইজন।
বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল পারিবারিকভাবে পুনরায় বিয়ে হয় তাদের। এরপর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামীর বাড়িতে শুরু হয় কাকুলীর উপর অমানুষিক নির্যাতন। ৯ মাসের মাথায় বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয় কাকুলীকে।
রায়পুর গ্রামের কাত্তিক সরকার জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার শালিসী বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। কয়েক দিন কেটে গেলেই ঘটনা আবার একই হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে ঘটনাটি প্রশাসন পাড়ায় গড়ানোর পর অবশেষে গত ৫ সেপ্টেস্বর রাতে শিশির সরকারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 
পরদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার উভয়ের মধ্যস্ততা করে দেয়। শিশির সরকার মোচলেকা দিয়ে স্ত্রী কাকুলীকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
কাকুলীর বাবা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুকমল মন্ডল বলেন, এই ঘটনার পর কাকুলীকে বাড়িতে নিয়ে শিশির নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি পুলিশ-আদালতে গেলো কেন? তিনি বলেন, এক মাস না যেতেই আবারো স্বামীর ঘর ছাড়তে বাধ্য হলো। সংসার করা হলো না আমার মেয়ের।
কাকুলী মন্ডল জানায়, শুধু নির্যাতন করে খ্যান্ত হচ্ছে না, শিশির মিথ্যে অপবাদও দিয়ে বেড়াচ্ছে। সেদিন শুধুমাত্র জেলে যাওয়ার ভয়ে আমাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। এখন আবার তাড়িয়ে দিলো। আমি ন্যায় বিচার চাই। আমি সংসার করতে চাই।
এ ব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, বিষয়টি নিয়ে ছেলে ও মেয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। ছেলের অভিযোগ, বউ তার সঙ্গে থাকতে চায় না। আর মেয়ের অভিযোগ, স্বামী তাকে রাখতে চায় না। একবার তাদের দুইজনকে এক করে দেয়া হয়েছিল। পারিবারিক বিষয় নিয়ে তো আর কিছু করার থাকে না।
আকরামুল ইসলাম/এআরএ/পিআর