ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় তিন নদীর ভাঙনে ২ শতাধিক ভিটেমাটি বিলীন

প্রকাশিত: ০৮:২৫ এএম, ১১ নভেম্বর ২০১৬

গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীতে অসময়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় সদর উপজেলার কামারজানি ও সাঘাটা উপজেলার কয়েক গ্রামে গত দুই সপ্তাহে দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ, মন্দিরসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।

এদিকে বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়া দুই শতাধিক পরিবারের লোকজন নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকেই এখন ঠাঁই নিয়েছেন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উচু জায়গায়। এছাড়া ভাঙন এলাকার অনেকে তাদের বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে এসব পরিবার খেয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করলেও সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পায়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার কামারজানি বন্দরে তিস্তার পানি অনেকটা কম। কিন্তু তারপরেও প্রতিদিনই ভাঙছে নদীর-তীরবর্তী এলাকা। কয়েক দিনের ভাঙনে গোঘাট এলাকার ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। এর আগে বর্ষা মৌসুমেও এলাকার আরও পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়। এছাড়া কামারজানির এসএম কলুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু বসতবাড়ি এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে।

Gaibandha

অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার অন্যান্য পয়েন্টে তেমন ভাঙন না থাকলেও সাঘাটা উপজেলার বরমতাইড়, গোবিন্দী, হলদিয়া, গোবিন্দপুর, কানাইপাড়া এলাকায় ভাঙনে এরই মধ্যে দেড় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীতে চলে গেছে।

ভাঙনের মুখে রয়েছে বেড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, হলদিয়া ও বেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, তিনটি জামে মসজিদসহ বিস্তীর্ণ এলাকার আরও শতাধিক বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা।

ভাঙনের ফলে সাঘাটার হলদিয়ার কানাইপাড়া দাখিল মাদরাসার তিনতলা ভবনের পূর্বাংশের দুটি পিলারের নিচ থেকে মাটি ধসে গেছে। ফলে বিদ্যালয়টি এখন হুমকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় ভবনটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ভাঙনের তীব্রতা যদি আরও বেড়ে যায় তাহলে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ভবনটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

বসতবাড়ি হারানো হলদিয়া এলাকার সাহেব মিয়া বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে বাড়িঘর করে বসবাস করে আসছিলাম। কিন্তু অসময়ের নদী ভাঙন আমার সবকিছু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

কামারজানির গোঘাট এলাকার আয়নাল হক, মধু মিয়া ও জোব্বার আলী জানান, নদী ভাঙনে বসতভিটাসহ আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। এখন বাড়িঘর উঠানোর কোনো জায়গা-জমি নেই, এমতাবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠিকানাহীনভাবে থাকতে হচ্ছে।

এ ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি নদীপাড়ে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সাঘাটায় হলদিয়া ও চিনিরপটল গ্রামের হাজারো নারী-পুরুষ যমুনা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কারণে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী চন্দ্র শেখর দাস জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শেষ হয়েছে। এখন নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া গেলে আবারো ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হবে।

তবে বর্ষা মৌসুমের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শত শত মানুষের জানমাল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবে- এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের মানুষের।

জিল্লুর রহমান পলাশ/এফএ/পিআর