সারিয়াকান্দি পৌর মেয়রের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমনের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
পৌর মেয়র সুমন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের সঙ্গে বিরোধের কারণে সম্প্রতি দল থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়। এরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর মেয়রের বাসভবনের দরজা-জানালা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পর ঘরের আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাতে এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার কারণে পুনরায় শুক্রবার দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ভোরে মেয়রের হিন্দুকান্দিস্থ বাসভবনে অগ্নিসংযোগে করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব জানান, আগুন নেভানোর সময় বাহিরের দরজায় তালা দেয়া ছিল। পরে পুলিশের সহায়তায় তালা ভেঙে বাসার ড্রয়িংরুমের বিভিন্ন আসবাবপত্রে লাগানো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র আলমগীর শাহী অভিযোগ করেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রথমে বৃহস্পতিবার সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এবং বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম রাজুর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী তার বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে তারাই আবার একইভাবে শুক্রবারও হামলা চালিয়েছে। এমনকি বাড়ির সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার জন্য বাহির থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এবং বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত আলমগীর শাহী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সংসদ সদস্য এবং তার পরিবারের সঙ্গে সর্ম্পকে ফাটল ধরে। ওই বিরোধের জের ধরে সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে আলমগীর শাহীকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়ে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
এদিকে, সংসদ সদস্য সমর্থিত দলের এক নেতা আলমগীর শাহীর বিরুদ্ধে পৌরসভা ভবন নির্মাণের জমি কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। গত ৮ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বগুড়ার উপ-পরিচালক বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেন। এ নিয়ে সংসদ সদস্যর সমর্থকদের সঙ্গে আলমগীর শাহীর সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।
সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলামসহ তার কর্মীরা আকিল মিয়া নামে পৌর মেয়রের এক কর্মীকে খুঁজছিলেন। মেয়রের বাসায় আকিল লুকিয়ে থাকতে পারে এমন সন্দেহে তারা সেখানে যান। এক পর্যায়ে কিছু উ-শৃঙ্খল কর্মীরা বাসায় ইটপাটকেল মেরে দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র আলমগীর শাহী বলেন, এই ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। অসুস্থ স্ত্রীকে চিকিৎসক দেখাতে রংপুরে অবস্থান করছিলেন। বাসায় তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন। ভাগ্যক্রমে তারা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
এআরএ/এমএস