ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কতো সাংবাদিক ছবি তুললো ব্রিজ অইলো না

প্রকাশিত: ০৪:২৯ এএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৬

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া এলাকা ও কাশিল কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ঝিনাই নদীতে ব্রিজ না থাকায় ৪ উপজেলার সাধারণ মানুষ পোহাচ্ছে চরম দুর্ভোগ। ব্রিজ না থাকার ফলে ভরা বর্ষা মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় প্রতিদিন নদী পার হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
 
জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলার নাটিয়াপাড়া থেকে বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর সড়কের ঝিনাই নদীর উপর ১৯৯৮ সালে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। পরে গত ২০১৫ সালের আগস্টে বালু বহনকারী একটি ট্রলারের ধাক্কায় সেতুটির একটি পিলার ও উপরের কিছু অংশ ভেঙে যায়। ফলে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়।

একই বছর কাশিল ভায়া বল্লা-নাটিয়াপাড়া সড়কের ঝিনাই নদীতে সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রায় চার বছর ব্যবহারের পর সেতুটির নিচের মাটি সরে গিয়ে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে যায়। এর ফলে সেতুটিতে যাতায়াত বন্ধ হয়। এছাড়া একই বছরে ফুলকি-করটিয়া সড়কের দাপনাজোর এলাকায় ঝিনাই নদীতে সেতু নির্মাণ করা হয়। এ সেতুটিরও মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, কাঞ্চনপুর ও কাশিলের ঝিনাই নদীতে ব্রিজ না থাকায় বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নদীর ওপারের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহশ্রাধিক শিক্ষার্থীর। প্রতিদিন নৌকায় করে পার হয় মির্জাপুরের আদাবাড়ি গহর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাসাইলের কাঞ্চনপুর এলাহিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা, কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিল কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয়, কাশিল আব্দুল কাদের, আব্দুল খালেক দাখিল মাদরাসা, হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিম খানা, কাশিল বটতলা শাখার শাহীন ক্যাডেট স্কুলসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ মির্জাপুর, দেলদুয়ার, সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার জনসাধারণ। জেলার চারটি উপজেলার লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের এ দুর্ভোগ সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।
 
Basail

স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নদী খননের নামে ড্রেজিংয়ের ফলে ঝিনাই নদীতে প্রতি বছর ব্যাপক ভাঙন হয়। এতে ঝিনাই নদীর পার্শ্ববর্তী শত শত ভিটা-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও নথখোলা ব্রিজ, নথখোলা স্মৃতিস্তম্ভ, কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয়, নথখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতিসহ শহীদ মিনার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কাশিল কেবিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী মিম আক্তার বলেন, ব্রিজটি না থাকায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। এর ফলে স্কুলে যেতেও বেশি সময় লাগে। এ ছাড়াও মাঝে-মধ্যেই নৌকা ডুবে যায়।
 
কাশিল দক্ষিণপাড়ার নুরজাহান বেগম বলেন, ‘কতো ইঞ্জিনিয়ার-টিঞ্জিনিয়ার মাপ-ঝুক করল, কতো সাংবাদিক ছবি তুললো কিন্তু ব্রিজ তো আর অইলো না।’
 
কাঞ্চনপুর ছনকাপাড়ার সাইফুল ইসলাম বলেন, কাজিরাপাড়া এলাকার ঝিনাই নদীর উপর একটি ব্রিজের অভাবে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গবাদি পশু পারাপারের সময় চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যে জানা যায়, নদীতে নৌকা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। প্রতি বছর ঝিনাই নদীতে ভাঙন রোধে সরকার যে পরিমাণ টাকা খরচ করছে, তাতে এতদিনে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা যেতো বলেও মন্তব্য করেন তারা।

এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুছ ছাত্তার জানান, কাঞ্চনপুর, কাশিল ও দাপনাজোর এলাকার ঝিনাই নদীর উপর তিনটি ব্রিজের কাজ একযোগে শুরু হবে। অতি দ্রুতই ব্রিজের কাজগুলো শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/পিআর