ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় জেল খাটলেন আ.লীগ নেতা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় চন্দন কুমার (৪৫) নামে এক আওয়ামীলীগ নেতা ১৪ দিন জেল খেটেছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (এসআই) ওয়াহেদ আলীকে অভিযুক্ত করে আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কুমার বুধবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ পরিদর্শক, উপ-পুলিশ পরিদর্শক, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মনমথ গ্রামের সুশীল চন্দ্র রায়ের ছেলে চন্দন কুমার। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সুন্দরগঞ্জ থানা শাখার সহ-দফতর সম্পাদক।
গত (৫ অক্টোবর) ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার ডিএমপি ঢাকা জি আর-৭৬৮/১৪ মামলার আসামি দেখিয়ে একটি ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় চন্দন কুমারকে গ্রেফতার করেন এসআই ওয়াহেদ।
গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে খাবার পানি না দিয় হাত-পা ও চোখ বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরদিন (৬ অক্টোবর) চন্দনকে গাইবান্ধা কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় চন্দনের পরিবার মোহাম্মদপুর থানায় মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলন করতে গিয়ে জানাতে পারেন চন্দন নামে থানায় কোনো মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, যে মামলায় চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে মামলাটি সরকারি খাদ্য কালোবাজারে বিক্রির দায়ে পুলিশ বাদী হয়ে ঢাকার ১৭/৮ বাবর রোড মহল্লার মকবুল হোসনের ছেলে আব্দুল আজিজ আহম্মদ ও বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার গরমগাল গ্রামের হাসান হাওলাদারের ছেলে শাহ আলমকে আসামি করা হয়। মামলাটি গত ১৭/১২/২০১৪ইং তারিখে মোহাম্মদপুর থানায় ৩২(১২)১৪ নম্বরে দায়ের করা হয়।
এদিকে জেলা দায়রা জজ আদালত ওই মামলায় নথিপত্র চন্দন কুমার নামে মামলা ও কোন প্রকার গ্রেফতারি পরােয়ানা না থাকায় গত ১৬ অক্টোবর মামলা থেকে চন্দনেক অব্যাহতি দেন। এরপর গত ১৯ অক্টোবর গাইবান্ধায় রিলিজ অর্ডার পৌঁছালে আদালতের মাধ্যমে চন্দন কুমার কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এ নিয়ে এসআই ওয়াহেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। অপরদিকে আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন কুমার বলেন, একটি মহলের কাছে প্রভাবিত হয়ে এসআই ওয়াহেদ তাকে ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠান। এর প্রতিকার দাবিতে আমি সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ দিয়েছি।
জিল্লুর রহমান পলাশ/এএম/এমএস