ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাঁশতলা চারাগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

প্রকাশিত: ০৬:০৫ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৬

উন্নয়নের ছোঁয়া নেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাঁশতলা চারাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আশানুরূপ শিক্ষার্থী থাকার পরও শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বসার সিট না থাকায় নিরুপায় হয়ে গাদাগাদি করে মেঝেতে বসে ক্লাস করছে শিশুরা।

ছাদের বিমের প্লাস্টার খসে পড়া, ভবনে ফাটল ও বসার সিট সংকটের একাধিক ছবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিলেও আজো ঘুম ভাঙেনি সংশ্লিষ্টদের। সরকার যখন আধুনিক ভবন নির্মাণে অনড় ঠিক এর উল্টো চিত্র মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা এই বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৩২০ জন। পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন চারজন।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই ফ্লোরে পানি থৈ থৈ করে। তখন বারান্দার কোণে গিয়ে ক্লাস করতে হয়। এছাড়া ভবনটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ক্লাস চলাকালীন চরম আতঙ্কে কাটে। কোমলমতি এই শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে একটি আধুনিক নতুন ভবন চায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা খাতুন রুবা আক্ষেপের সুরে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই বছরের পর বছর ক্লাস নিতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ বসার সিট না থাকায় ভাঙা মেঝেতে চট বিছিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয়। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

তিনি বলেন, ছাদের বিমের প্লাস্টার খসে পড়া, ভবনের ফাটল ও বসার সিট না থাকার একাধিক ছবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিলেও কার্যত কিছুই হয়নি।
 
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের ভবনটি ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মিত হয়। নির্মাণের কিছু দিনের মধ্যেই ভবনটির দেয়াল ও ছাদে ফাটল ধরে। ছাদের বিমের প্লাস্টার খসে পড়ে রডও বের হয়ে গেছে শুরু থেকেই।

Sunamganj

সর্বশেষ সাম্প্রতিক সময়ে দফায় দফায় ভূমিকম্পে সেই ফাটল আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
 
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এমনটাই দাবি এই জনপ্রতিনিধির।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হযরত আলী জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যায়িত করে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে দ্রুত চিঠি পাঠানো হবে।

রাজু আহমেদ রমজান/এফএ/এনএইচ/এমএস