ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাঁওতাল পল্লীতে শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র

প্রকাশিত: ১২:১৮ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ার সাঁওতাল পল্লীতে আশ্রয় নেয়া ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য লেখাপড়া, একবেলা খাবারসহ দুটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।

ব্র্যাকের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্র শিশুদের জন্য দুটি বিনোদন কেন্দ্র ও ঢাকাস্থ বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বিনোদন কেন্দ্রে শিশুদের লেখাপড়া, একবেলা খাবার ও নাচ-গানের আয়োজন করেছে।

এসব বিনোদন কেন্দ্রে সাঁওতাল পল্লীর শিশুরা পড়াশুনাসহ নানা ধরণের খেলার উপকরণ পেয়ে বেশ আনন্দ করছে। কেন্দ্রগুলোকে নানা উপকরণে সাজানো হয়েছে। এখানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিশুরা সুবিধামত সময়ে আনন্দ করছে।

বিনোদন কেন্দ্রে খেলতে আসা স্মৃতি মুরমু জানায়, তাদের খেলাধুলার কোনো সুযোগ ছিল না। এখানে এসে  নাচ-গানের আসরসহ নানা রকম খেলাধুলা করে ভালো লাগছে।

রেশমা মার্ডি জানায়, তাদের আগের ভেঙে দেয়া বসতির পাশেই ছিল আখখেত। সেই আখখেতে তারা খেলতো। কিন্তু তাদের উচ্ছেদ করে মিল কর্তৃপক্ষ সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ায় সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন এই বিনোদন কেন্দ্রে এসে তারা আবার আনন্দ ফিরে পাচ্ছে। এছাড়া শিশু এমিলা মুরমু, মর্ডি, শর্সা মারিও একই কথা জানান।

গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন জানান, উপজাতি শিশুরা শিক্ষা ও বিনোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিকভাবেই বঞ্চিত। এছাড়াও সাম্প্রতিক ঘটনায় শিশুরা মানসিকভাবে কিছুটা আতঙ্কিত। একারণেই শিশুদের জন্য বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মো. ফারুক আহমেদ জানান, গত শুক্রবার থেকে গোবিন্দগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্থ সাঁওতাল পরিবারের ১০২ জন শিশুর জন্য পড়ালেখা, আনন্দের জন্য খেলার উপকরণ ও সন্ধ্যায় একবেলা খাবার দেয়া হচ্ছে। সাঁওতাল পল্লীর শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে ফান্ড প্রাপ্তি সাপেক্ষে এ কার্যক্রম আরও বেশ কয়েকদিন চলবে।

তিনি আরও জানান, এর আগেও চট্ট্রগ্রাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, রামুসহ বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষদের মধ্যে এক টাকার বিনিময়ে দরিদ্রদের খাদ্য বিতরণের কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। কিন্তু সাঁওতাল পল্লীতে টাকা না নিয়ে বিনামূল্যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জিল্লুর রহমান পলাশ/আরএআর/পিআর