হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির ঘটনায় আটক ৬
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে ৯ দিনের শিশু চুরির একদিন পার হলেও পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারেনি। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। চিকিৎসা সহায়তার কথা বলে কৌশলে সদ্যজাত শিশুটি নিয়ে পালিয়ে গেছে এক প্রতারক নারী।
চুরি যাওয়া শিশু আলী যশোরের কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। উন্নত চিকিৎসা নিতে এসে ৯ দিন বয়সী একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হতদরিদ্র পরিবার। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের ছয় কথিত দালালকে আটক করেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, যশোরের কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী তহমিনা বেগম (২০) গত ১৯ নভেম্বর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হন।
তহমিনা জানান, ৮দিন আগে বাড়িতে শিশুসন্তানের জন্ম দেন তিনি। এরপর অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের স্বজনরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে শনিবার তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। কেশবপুর থেকে সিএনজিযোগে যশোরে আসার সময় এক অপরিচিত বোরখা পরিহিত নারী তাকে সহায়তার কথা বলেন।
রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অজ্ঞাতনামা ওই নারী ওয়ার্ডে গিয়ে তহমিনাকে বলেন, নিচে মাইক্রোবাসে স্যার বসে আছেন। আপনাদের টাকা দেবেন এ জন্য ছবি তুলতে হবে। তখন নানী ফিরোজা শিশুকে নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে যান।
এরপর তাদের শহরের বেসরকারি কুইন্স হাসপাতালের তিন তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নানীকে বসতে বলে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে শিশুটিকে নিয়ে ফিরে না আসায় উপস্থিত লোকজনের মাধ্যমে খোঁজাখুজি শুরু করেন।
এ ব্যাপারে কুইন্স হাসপাতালের ম্যানেজার মিঠু সাহা বলেন, ওই নারী অভিযোগ করলে তিনি ভিডিও ফুটেজ দেখেন। যা পেনড্রাইভে করে পুলিশকে দেয়া হয়েছে।
যশোর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহা ঘটনাটি শুনেছেন জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন ত্রুটি ছিল না। তিনি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মানুষকে সচেতন হতে পরামর্শ দেন।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন বলেন, ওই নারীকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া কুইন্স হসপিটালে থাকা সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রতারক নারীকে শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করেছে। এরা সবাই হাসপাতালের দালাল চক্রের সদস্য।
মিলন রহমান/এএম/পিআর