প্রচারণায় ব্যস্ত সাতক্ষীরার প্রার্থীরা
রাত-দিন ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আসন্ন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলার জনপদ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শুধু চেয়ারম্যান পদে নন, মাঠে নেমেছেন সদস্য পদপ্রার্থীরাও।
তবে এ নির্বাচন নিয়ে নীরবতা পালন করছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। দলীয় সিদ্ধান্ত না থাকায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রণ করছে না বলে জানান নেতারা। ফলে আওয়ামী লীগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে নির্বাচনী আমেজ। তবে নিজেদের মধ্যেই চলছে লবিং-গ্রুপিং। আওয়ামী লীগ থেকে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন- সেটাই এখন দেখার বিষয়।
স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই ভোট দিয়ে চেয়ারম্যানসহ ২১ পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলা, ৭৮টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার এক হাজার ৬১ জনপ্রতিনিধি জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচিত হবেন একজন চেয়ারম্যান, ১৫ সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত নারী সদস্য। জেলার ১৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এরশাদ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রথম মনোনীত চেয়ারম্যান ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ-মনোনীত জেলা পরিষদের প্রশাসক হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদ। 
চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও তালা-কলারোয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নজরুল ইসলাম এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র, সাবেক সংসদ সদস্য জেলা স্বাচিপ সভাপতি ডা. মোকলেছুর রহমান, জেলা শ্রমিক লীগ নেতা ছাইফুল করিম সাবু, সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন ও ন্যাপ সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমান। তাছাড়া পুরুষ সদস্য পদে ৩১ ও নারী সদস্য পদে আটজন প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এছাড়াও বর্তমান প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন। মুনসুর আহমেদ দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে পরপর চারবার চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে পরপর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮০-১৯৯৮ পর্যন্ত টানা ১৯ বছর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ প্রশাসক মনোনীত হন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে তিনি দলের সভাপতি হন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাবলু জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত না থাকায় আমরা নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছি।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ শেখ আজহার হোসেন বলেন, দল এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ বাবু জাগো নিউজকে বলেন, এতদিন অনির্বাচিত জেলা পরিষদ প্রশাসক ছিলেন। এই প্রথম নির্বাচিত প্রশাসক হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা চলছে। দল থেকে যিনি মনোনয়ন পাবেন আমরা তার জন্যই কাজ করবো। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি হবে।
আকরামুল ইসলাম/আরএআর/এনএইচ/পিআর