ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আড়াই লাখ টাকায় ফিরতে পারে আরিফুলের স্বাভাবিক জীবন

প্রকাশিত: ০৭:৩৯ এএম, ২২ নভেম্বর ২০১৬

দুই হাতের একটি আঙ্গুলও বাইরে নেই। বর্ধিত চামড়ায় ঢেকে গেছে পুরো হাত দুটো। সর্বাঙ্গে কঠিন চর্মরোগ। পায়েরও একই অবস্থা। তবুও বাবা-মায়ের উৎসাহে নিজেকে স্বশিক্ষিত করার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে মেধাবী শিশু মো. আরিফুল ইসলাম (১২)।

এবারের পিএসসি পরীক্ষায় কক্সবাজারের ঈদগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে (কক্সবাজার সদর-৬) অংশ নিচ্ছে প্রতিবন্ধী আরিফ।  

আরিফের মা দিলদার বেগম বলেন, ১২ বছর আগে আর দশটা শিশুর মতোই স্বাভাবিক হাত-পা নিয়ে আরিফের জন্ম হয়। ৫ বছর তার জীবন স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু হঠাৎ তার শরীরে চর্মরোগ দেখা দেয়। চিকিৎসা করানোর পরও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে হাত ও পায়ের চামড়া। একময় তা পুরো হাত-পায়ের আঙ্গুল ঢেকে আরিফকে প্রতিবন্ধি করে ফেলে। বন্ধ হয়ে যায় তার একাকি পথ চলা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক অভয় দিয়ে বলেছিলেন, এটি বড় কোনো রোগ নয়। অপারেশন করে বর্ধিত চামড়া ফেলে দিলে আরিফ আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে। এতে আনুমানিক খরচ পড়বে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

কিন্তু দর্জির কাজ করে সংসার চালানো দলিলুর রহমানের পক্ষে ছেলে আরিফের জন্য একসঙ্গে এত টাকা খরচ করা সম্ভব নয়। তাই আর চিকিৎসা করানো হয়ে উঠেনি। তখন থেকেই চলাচলের জন্য মায়ের কোলই তার অবলম্বন।

আরিফুল ইসলাম সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ লরাবাগ জমিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মা দিলদার বেগমের কোলে চড়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে আসছে আরিফুল।

পিএসসির কক্সবাজার সদর-৬ কেন্দ্র প্রধান মো. শাহ আলম বলেন, বৃহত্তর ঈদগাঁও এর ২টি ইবতেদায়ী মাদরাসাসহ ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৫শ ৮৮ শিক্ষার্থী এই কেন্দ্রে পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এই কেন্দ্রে একমাত্র প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী হিসেবে আরিফুল জন্য সব ধরণের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।  

কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, গভীর মনযোগে বাংলা বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর করছে আরিফুল। পরীক্ষার পর আরিফের সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, আঙ্গুলবিহীন হাতে লিখতে প্রথম প্রথম কষ্ট হতো। এখন নিজের মতো করে লিখতে পারি। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের মতো দ্রুত লেখা তার সম্ভব হয়ে উঠে না। এরপরও নিজেকে একজন বড় অফিসার হিসেবে প্রতিষ্টা করার স্বপ্ন তার। এ যাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা করে আরিফ।

আরিফুলের এ রোগের কথা প্রচার হওয়ার পর তাকে দেখতে পরীক্ষা কেন্দ্রে যান জালালাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা যুবলীগ সহ-সভাপতি ওসমান সরওয়ার ডিপো।

এক প্রতিক্রীয়ায় তিনি জানান, সরকার সকল শিশুর শিক্ষা নিশ্চতকরণে কাজ করছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আরিফও তা পাচ্ছে। তবে মাত্র আড়াই লাখ টাকা হলে অস্বাভাবিক জীবন থেকে ফিরতে পারে আরিফুল।

এসময় মায়ের হাতে প্রাথমিক সহায়তা তুলে দিয়ে সবাইকে আরিফের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানান প্যানেল চেয়ারম্যান ডিপো।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/পিআর