তিস্তার পাড়ে তীব্র ঠাণ্ডা
তিস্তা পাড়ে সন্ধ্যায় হালকা কুয়াশা থাকলেও রাতে কনকনে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। শীতের কবলে পড়ে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এসেছে তিস্তা নদী বিধৌত নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। সে সময় তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উত্তারাঞ্চলের নীলফামারীসহ আশেপাশের এলাকায় ডিসেম্বর মাস জুড়ে থাকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ভারতীয় হিমালয় পর্বতের কাছাকাছি হওয়ায় চারদিক থেকে কালবৈশাখী ঝড়ের মতো ধেয়ে আসে শীতের আক্রমণ।
তিস্তা নদীর বিভিন্ন চর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনের কুণ্ডলি জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে অসহায় পরিবারগুলো। শীতের সময় শীত বস্ত্রের অভাবে বিপাকে অসহায় জনগোষ্ঠী। বেশি বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শীতের সময় হাসপাতালে শীতজনিত রোগে বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া, হাঁপানি, ক্লোড ডাইরিয়া ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।20161123165349.jpg)
দেশের অন্যান্য স্থানের তূলনায় এ জেলায় শীতের প্রকোপ বেশিই। শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমণী বার্তা। দিন যতই যাচ্ছে শীতও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কার্তিকের শুরু থেকেই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা। ক্রমেই তা ভারি হচ্ছে। কদিন থেকে সন্ধ্যার পরই শুরু হয়েছে হালকা কুয়াশা। দিনের শেষে বিকাল থেকেই শীতল হাওয়া আর সন্ধ্যার পর পরই কুয়াশা ঝরতে শুরু করেছে।
এদিকে, শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই পুরনো শীত বস্ত্র ঠিক ঠাক করে নিচ্ছেন। বাজারের দোকানগুলোতে লেপ-তোষক তৈরির হিরিক পড়েছে। নিম্নআয়ের লোকজন শীত নিবারণের জন্য পুরনো ছেঁড়া শাড়ি, লুঙ্গি দিয়ে নতুন কাঁথা তৈরি করছেন।
তিস্তাপাড়ের পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিঙ্গেশ্বর এলাকার আবুল কালাম জাগো নিউজকে জানান, রাত ৮টার পরে তিস্তা এলাকায় কনকনে শীত পড়েছে। ওই এলাকার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের কিছামতের চরের বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান শীতের তীব্রতায় আগুনের কুণ্ডলি জ্বালাতে হচ্ছে।
জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের কিসামত দোগাছী গ্রামের কৃষক সাদ্দাম আলী (৫০) বলেন, শীতের কারণে সকাল ১০টার আগে কৃষি জমিতে কাজে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ কারণে স্বাভাবিক কাজের ব্যঘাত ঘটছে।
অপরদিকে, একই গ্রামের কৃষি শ্রমিক আব্দুল মালেক (২৬) বলেন, শীতের কারণে কাজ কমে গেছে। আর যেটুকু মিলছে তাতে মজুরি কম আসছে। পাশাপাশি শীত বস্ত্রের অভাবে পরিবারের দুই শিশু সন্তানসহ দুর্ভোগে আছি।
শীতের কারণে আগের তুলনায় লোক সমাগম কমেছে জেলা শহরে। ফলে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে ব্যবসা বাণিজ্যে। জেলা শহরের ব্যবসায়ী আবুল কালাম (৪৫) বলেন, লোকসমাগম কমার কারণে দোকানে বিক্রি কমেছে।20161123165400.jpg)
ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শনিবার ডিমলার সর্বোর্চ তাপামাত্রা ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ দশমিক ৭ডিগ্রি সেলসিয়াস।
নীলফামারী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এখনো শীতার্ত মানুষের জন্য সরকারি ত্রান এসে পৌছায়নি। সরকারিভাবে শীতবস্ত্র আসলে তিস্তা তীরে আশ্রয় নেয়া লোকজনকে বেশি দেয়ার চেষ্টা করব।
জেআই/আরএআর/আরআইপি