সরকারি খালে অবৈধ পালা দিয়ে মাছ শিকার
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওয়াপদা খালে বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতে শুরু হয়েছে অবৈধভাবে বাঁশ ও গাছের ডালপালা ফেলে পালা (কাঠা) দেয়ার মহোৎসব।
প্রতি বছর সরকারি এ খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে উপজেলার শত শত ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী বেকার হতে বসেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার তালতলা, নিজামকান্দি, নড়াইল, সাধুহাটি, ধীরাইল, রামদিয়া, সাফলীডাঙ্গা, আড়ুয়াকান্দি, খাগড়াবাড়িয়া, সোনাডাঙ্গা, মাহমুদপুর, কুমারিয়া ও গোয়ালগ্রাম এলাকায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে সরকারি খালে অবৈধভাবে বাঁশ, গাছের ডালপালা দ্বারা কাঠা দিয়ে এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন।
অথচ ১৯৫০ সালের মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ‘গাড়া পাতন বাঁধ’ স্থাপন করে মাছ শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খালে অবৈধভাবে পালা দিয়ে এবং কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী।
সরেজমিন ওয়াপদা খালের তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খালের মধ্যে এক তৃতীয়াংশজুড়ে বাঁশ পুতে গাছের ডালপালা ফেলে খাল দখল করে রাখা হয়েছে। ক্রমেই এদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এতে খালে একদিকে যেমন নৌযান চলাচল বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কচুরিপানা আটকে পানি প্রবাহও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বোরো মৌসুমে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল নৌপথে পরিবহন করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. লুৎফর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার জানা ছিল না, এখন জেনেছি বিষয়টি দেখবো।
স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাঁশ, ডালপালা দ্বারা ছোট আকারের একটি পালা নির্মাণে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে প্রতি বছর পালাভেদে দুই থেকে পাঁচ হাজার করে টাকা দিতে হয়।
এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শেষে এ অঞ্চলের দরিদ্র জেলেরা জিম্মি হয়ে পড়ে স্থানীয় আড়তদারদের কাছে। খালে পালা দিতে হলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছ থেকে দাদনে টাকা নিতে হয়।
এভাবে উপজেলার পাঁচ শতাধিক জেলে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে শোষিত হয়ে আসছেন। দরিদ্র জেলেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাছ শিকার করেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।
অপরদিকে, উপজেলার বেথুড়ী, পুইশুর, হাতিয়াড়া, দেবাশুর, ঘৃতকান্দি, সীতারামপুর, নড়াইল-জোতকুরা, নিজামকান্দি, ওড়াকান্দি, রাজপাট, ফলসী, গোপীনাথপুর, ফুকরা এলাকার সরকারি শাখা খালগুলো শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে না হতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পরিকল্পিতভাবে খালে আড়াআড়ি মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়ে পানি সেচে মাছ শিকার করছেন। ফলে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ওই এলাকার দরিদ্র মৎস্যজীবী গোপাল বিশ্বাসসহ একাধিক মৎস্যজীবীরা জানান, ক্ষমতাশালীরা খালে পালা দিয়ে মাছ শিকার করায় আমরা সাধারণ জেলেরা মাছ ধরার সুযোগ পাই না। এতে চরম দুর্দিনের মধ্যে আমাদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুল হাসান বলেন, সরকারা খালের এসব অবৈধ পালা দ্রুত অপসারণ করা হবে।
হুমায়ূন কবীর/এফএ/এনএইচ/এমএস