ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেনাপোলে ‘স্বাগতম গেট’ নির্মাণে জটিলতা

প্রকাশিত: ১০:৫১ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৬

যশোরের বেনাপোল পৌরসভার স্বাগতম গেটের নির্মাণ কাজ চলছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ গেটটি নির্মাণ শুরু হয়েছে গত বছরের নভেম্বর থেকে। বেনাপোল পৌরসভার শেষ সীমান্ত আমড়াখালীতে এই গেটটি নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের সময় দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের চোখে পড়বে সুন্দর গেটটি। কিন্তু বাধ সেধেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সওজ কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে ফটকসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, যা মহাসড়ক আইন-১৯২৫ এর পরিপন্থী।

অন্যদিকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলা পরিষদের অনুমোদন নিয়ে দৃষ্টিনন্দন গেটসহ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজে বাধার সৃষ্টি করবে না।

Pouro

বেনাপোল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দাতা সংস্থা বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর বেনাপোল পৌরসভার প্রবেশমুখে বেনাপোল পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় পৌরসভার প্রবেশমুখে গেটটির নির্মাণ কাজ চলছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। তবে ব্যয়ের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। গত বছরের ১৫ জুন বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে সড়কপথে যাত্রীবাহী, ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ‘বিবিআইএন’ মোটরযান চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে বেনাপোলে এ গেটটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ফুটপাত, টোলঘর, এক্সিবেশন হল, দোতলা গেস্ট হাউজ, রেস্টুরেন্ট, কফি হাউজ, পাবলিক টয়লেট, গাড়ি পার্কিং, সিটিং প্লেস, মিনি পার্ক, নারীদের হ্যান্ডিক্রাফট স্টল, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিভিন্ন ম্যুরাল থাকবে। গত বছরের ১ নভেম্বর ঝিনাইদহের এমএলটিএমকেএমআরজেভি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন শ্রমিক গেট নির্মাণে কাজ করছেন। শ্রমিকরা জানান, প্রায় আট মাস ধরে তারা সেখানে কাজ করছেন। নকশা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হতে পারে।

সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সওজের বিনা অনুমতিতে ফটকসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, যা মহাসড়ক আইন-১৯২৫ এর পরিপন্থী। এ মহাসড়কের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য হয়। যে কারণে মহাসড়কটি চার/ছয় লেনে উন্নীতকরণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে নির্মাণাধীন স্থাপনাটি সড়ক সম্প্রসারণে বাধার সৃষ্টি করবে।

Pouro

এদিকে মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। এ কারণে ফটকটি ভাঙতে হতে পারে বলে জানিয়েছে সওজ বিভাগ। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি গত ২৫ অক্টোবর বেনাপোল পৌরসভার মেয়রকে দেয়া হয়েছে।

বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম বলেন, যশোর-বেনাপোল সড়কের জায়গার মালিক জেলা পরিষদ। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে দৃষ্টিনন্দন ফটকসহ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। চার লেন সড়কের ওপরই ফটকটি করা হচ্ছে। যে কারণে স্থাপনাটি মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজে বাধার সৃষ্টি করবে না।

তিনি আরো বলেন, ভৌগোলিক দিক বিবেচনায় ও বাণিজ্যিক শহর হিসেবে বেনাপোলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বেনাপোলকে একটি আধুনিক মডেল পৌরসভায় রূপ দেয়ার জন্য যা করার তাই করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ বেনাপোল বন্দর ও কাস্টমস হাউজে আসেন ও বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেন। তাদের নজর কাড়তে এই প্রবেশদ্বারটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সওজ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল জানান, অপরিকল্পিতভাবে মহাসড়কের ওপর পৌর কর্তৃপক্ষ ফটকসহ স্থাপনা নির্মাণ করছে। মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হলে নির্মাণাধীন ওই স্থাপনা ভাঙা হতে পারে। এ কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য পৌর মেয়রকে মৌখিকভাবে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি শোনেননি। অবশেষে তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারপরও তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরএআর/আরআইপি