ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘ভাইয়া আমারে বাঁচান’

প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৬

‘একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য দুইটা ডাল ভাতের টাকা উপার্জন করতে মেয়েকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন তারা মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিচ্ছে না। মেয়ের কোনো সন্ধানও দিচ্ছে না। আমার মেয়েকে তারা বিক্রি করে দিয়েছে।’

নিজের মেয়ে চম্পা বেগমকে (২৫) বিদেশ পাঠিয়ে এখন তার কোনো খোঁজ না পেয়ে মা রোকেয়া বেগম সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই আর্তনাদ করেন।

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের মেয়ে চম্পা বেগমের কথা মনে করে বার বার কেঁদে উঠছেন মা রোকেয়া বেগম।

চম্পা বেগমকে বিদেশ পাঠানোর মাসখানেক পরই ভাই আল-আমীন তাকে ফোন করলে চম্পা শুধু একবার বলে ‘ভাইয়া আমারে বাঁচান’। এরপর লাইন কেটে যায় এবং মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

যার মাধ্যমে চম্পা বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন সেই মোবারক হোসেন (৪৫)। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ডোয়াইনগর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের জামাতা মোবারক। বর্তমানে তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।

রোকেয়া বেগম জানান, তারা আমার মেয়েকে বিদেশ না পাঠিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন মেয়ের খবর জানতে চাইলে সপরিবারে মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়।

চম্পা বেগমের বাবা আব্দুল মালেক বলেন, তার মেয়ে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতো। কুলফু (৫) নামে চম্পা বেগমের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তিন বছর আগে চম্পার স্বামী আব্দুল মালেক তাকে ফেলে চলে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, মোবারক হোসেন ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপনের লোভ দেখায়। আমার মেয়েকে সৌদি আরবে অধিক বেতনে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। এজন্য তার কাছে ৭০ হাজার টাকা খরচ বাবদ দাবি করে। এজন্য আমার মেয়ের পাসপোর্ট করে মোবারক হোসেনের কাছে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেই। বাকি টাকা সৌদি আরবে চাকরি করে পরিশোধের মৌখিক চুক্তি হয়।

পরে মোবারক চলতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর বিদেশ পাঠানোর কথা বলে চম্পা বেগমকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এসময় চম্পার বড় ভাই নবী হোসেনও তাদের সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়। সেখানে তারা চম্পার বড় ভাই নবী হোসেনের কাছ থেকে অলিখিত সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। সৌদি আরবে কাজের জন্য এ স্ট্যাম্প লাগবে বলে তাদের জানায়।

চম্পা বেগমের আরেক ভাই রিকশাচালক আল আমীন জানান, বাড়ি থেকে নেয়ার সপ্তাহ দুই পর্যন্ত চম্পার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবারকের কাছে ফোন নম্বর চাইলে নানা রকম হুমকি প্রদর্শন করে। ভবিষ্যতে আমার বোনের কথা জানার চেষ্টা করলে সপরিবারে মিথ্যা মামলায়, হয়রানি এবং হত্যার হুমকি দেয়। অনেক কান্নাকাটির পর মোবারক হোসেন একটি ভুয়া ফোন নম্বর দেয়।

কিছুদিন পর আরেকটি নম্বর দেয়। ওই নম্বরে ফোন করলে চম্পা শুধু একবার বলে ‘ভাইয়া আমাকে বাঁচান’। এরপর লাইন কেটে যায় এবং মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। গত ২২ অক্টোবর রাতে অভিযুক্ত মোবারক মোবাইলে (০১৭৯০-৯৮৮৮৮১) থেকে ০১৮৬২-২৪৫১১০ নম্বরে ফোন করে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিলে আমার বোনকে এনে দিবে বলে জানায়।

এ ব্যাপারে ২০ নভেম্বর অভিযুক্ত মোবারক হোসেনের শ্বশুর বাড়িতে গেলে ওই বাড়ির কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। পরে মোবারকের মোবাইলে (০১৭৯০-৯৮৮৮৮১) বেশ কয়েকবার কল দিলেও তা রিসিভ হয়নি। এক পর্যায়ে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শ্রীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান জানান, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য কয়েকবার অভিযানও চালিয়েছি, এখনো চেষ্টা চলছে।

শ্রীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম/এআরএ/পিআর