ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভ্যান গাড়িতেই সংসার তাদের

প্রকাশিত: ১১:৪৫ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৬

ডাস্টবিনের বোতলসহ প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী কুড়িয়ে বিক্রি করা টাকায় চলে আবু তাহের (৬০) ও সালেহা বেগম (৪২) দম্পতির জীবন-সংসার।

ভ্যান গাড়িতে অবুঝ দুই শিশুকে নিয়ে রোজগারের আশায় দিনভর ছুটে চলেন এক ডাস্টবিন থেকে অন্য ডাস্টবিনে। বৃদ্ধ আবু তাহেরের শরীরে বাসা বেঁধেছে পাইলসজনিত রোগ। এছাড়া হার্টের সমস্যা, বাম চোখে ছানি পড়াসহ রয়েছে নানা ব্যাধি।

ক্লান্ত দেহঘড়ি যেদিন চলে না সেদিন সন্তানদের নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হয় এই দম্পতির।
 
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মতুরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বর্তমানে জেলা শহরের বৈঠাখালী খেয়াঘাট এলাকায় একটি অটোরাইস মিলের বারান্দায় দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটছে তার।

Abu
 
বুধবার বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ জেলা শহরের এসপি (পুলিশ সুপার) বাংলো এলাকায় ডাস্টবিন থেকে প্লাস্টিকের বোতল সামগ্রী কুড়ানোর সময় এই ব্যক্তির কথা হয় জাগো নিউজের সঙ্গে। জানালেন অসহায়ত্বের কাহিনী।

আবু তাহের জানান, প্রতিদিন ভোরে রুটি-রুজির ধান্ধায় ঠেলাগাড়িতে সন্তানদের নিয়ে ছুটে চলেন সুনামগঞ্জ জেলা শহরের এক ডাস্টবিন থেকে অন্য ডাস্টবিনে। সংগ্রহ করেন মানুষের ফেলে দেয়া বোতলসহ প্লাস্টিকজাতীয় বিভিন্ন সামগ্রী। দিন শেষে এসব বিক্রি করেন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। এতে রোজগার হয় ১০০-১২০ টাকা। এ টাকা দিয়েই চলে জীবন-সংসার। যেদিন খালি হাতে ফিরতে হয় সেদিন কাটে অনাহারে।
 
তিনি জানান, পাইলস, হার্টের সমস্যা, বাম চোখে ছানি পড়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। টানাপোড়েনের সংসারে অর্থাভাবে চিকিৎসা সেবা জুটছে না তার ভাগ্যে। তিন ছেলে ও চার মেয়ে তার। কিন্তু সবাই ব্যস্ত নিজের সংসার নিয়ে। অবুঝ দুই শিশুকে নিয়েই এখন ঘর-সংসার তার। গত তিন বছর ধরে এ কাজ করেই পেটের ক্ষুধা নিবারণ করছেন এই দম্পতি।

সরকারি কোনো সুবিধা পাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তার ভাষায়, ‘বাবারে আমগরে কেডায় কি দিব। গরিব মাইনসেরে কেডায় দেহে।’

এমএএস/আরআইপি