ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারাচ্ছে গ্রামীণ কুটির শিল্প

প্রকাশিত: ০৩:১৮ এএম, ০২ ডিসেম্বর ২০১৬

পৃষ্ঠপোষতা আর সহযোগিতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প। এক সময় এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করেতেন শত শত মানুষ। সাতক্ষীরার তৈরি বাঁশ-বেতের সামগ্রী স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে সরবরাহ হতো দেশের বিভিন্ন হাটে বাজারে। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে এ শিল্পে নিয়োজিত ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষ এখন ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন। অনেকে আবার বেকার হয়ে পড়েছেন।
 
তালা উপজেলার খানপুর গ্রামের কাত্তিক ঋষি জানান, এখন আর বাঁশ ও বেত ঠিকমত পাওয়া যায় না। আগে অল্প টাকা দিয়ে বাঁশ ও বেত কিনে ঝুড়ি, ডালাসহ বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্র বানিয়ে বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কেউ এসব কিনতে চায় না। এজন্য এখন মাটি কাটা শ্রমিকের কাজ করছি।

কাঁচামালের স্বল্পতা, মূল্যবৃদ্ধি, পুঁজি ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মাদুর তৈরি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আশাশুনি উপজেলার মানুষ।

বড়দল এলাকার মাদুর কারিগর মোসলেম উদ্দীন জানান, প্লাস্টিকের পাতি দিয়ে তৈরি মাদুর এখন শহরাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। অল্পদামে পাওয়া যায়। অপরদিকে মেলি দিয়ে তৈরি মাদুরের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কিনতে চায় না। তাছাড়া প্রয়োজনীয় কাচামালেরও এখন অভাব।

কালিগঞ্জ উপজেলার বাগ নলতা গ্রামের আব্দুল হাকিমের স্ত্রী বিলকিস বানু জানান, তাঁতকল এখন ঠিকমত চলছে না। পুঁজির অভাব। আগে অনেক তাঁতকল ছিলো কিন্তু এখন আর নেই। শতাধিক তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, দেশ স্বাধীনের আগে জেলায় তাঁত শিল্প গড়ে ওঠে। জেলার নলতা, সোনাটিকারী, হিজলা, চৌবাড়িয়া, বাগ নলতা, তারালি, তেঁতুলিয়া, সাতবসু, ব্রজপাটুলি, নারায়ণপুর, সাতক্ষীরা সদরসহ দুইশতাধিক গ্রামে হাজার হাজার তাঁতকল ছিল। এখন জেলা জুড়ে ৫০টি তাঁতকলও পাওয়া যাবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ শিল্প বিকাশে সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই। তিনি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ সুবিধার দাবি জানান।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর