ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে মাছচাষে লাভবান চাষি

প্রকাশিত: ০৫:৩৫ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬

সাড়ে ৩ একর জমিতে মাছ চাষ করে যখন মাছগুলো বিক্রির সময় হয়েছে তখন স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সব মাছ পানিতে ভেসে যায়। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে কোনো সাড়া পাইনি। কিন্তু বসে থাকিনি। আবার ধার দেনা করে মাছ চাষ করেছি। আশা করছি বন্যান ক্ষতি পুষিয়ে এবার মাছ বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবো। কথাগুলো বলছিলেন নোয়াখালীর সেনবাগের কৃষক সাহাব উল্লাহ।

শুধু সাহাব উল্লাহ একা নন তার মতো শত শত মাছ চাষির কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত বছরের জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত টানা বর্ষণে ফেনী জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট ফেনী নদী ও মাতা মুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেনী সংলগ্ন নোয়াখালীর সেনবাগ, সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জ উপজেলার সবকটি গ্রামে জলাবদ্ধতা থেকে বন্যা আকার ধারণ করে।

এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট, বাড়িঘরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে এ ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোর ব্যপক ক্ষতি হয়।

তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মাছ চাষিরা। ধার-দেনা বা কর্জ করে বিভিন্ন পুকুর, জলাশয়ে যারা মাছ চাষ করেছেন এ রকম শত শত ছোট বড় মাছচাষি মাছগুলোর শেষ রক্ষা করতে পারেননি। মাছগুলো ভেসে যাওয়ার কারণে তাদের যেমন লোকসান হয় কোটি কোটি টাকা তেমনি দায় দেনায় অনেকে জর্জরিত হয়ে পড়েন।

Noakhali

তবে বর্তমানে বন্যার সে ক্ষতি পুষিয়ে মাছ চাষে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিরা আবারো নবউদ্যামে মাছ চাষে মনোনিবেশ করেন। প্রাণান্তকর চেষ্টা করে অনেকে সে ক্ষতি পুষিয়ে বর্তমানে মাছে লাভের মুখ দেখছেন। তাছাড়া বাজারে মাছের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় দিন দিন এ পেশায় আবারো আগ্রহী হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

এক সময়ে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় পুকুর জলাশয় বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কচুরিপানায় পরিপূর্ণ থাকতো। কিংবা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকতো। কিন্তু এখন আগের সে অবস্থা নেই। মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় শিক্ষিত বেকারসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ মাছ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।

বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সমিতির উদ্যোগে মাছ চাষসহ ব্যক্তিগতভাবেও গ্রামের পুকুরে বা জলাশয়ে বিভিন্ন রকমের মাছ চাষ হচ্ছে।

Noakhali

বেশ কয়েকজন মাছচাষীর সঙ্গে আলপাকালে জানা যায়, মাঝে মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে বন্যায় ক্ষতি হওয়া মাছ চাষিদের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিন প্রণোদনা দিলে অনেকে ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় মাছচাষে আগ্রহী হবে আর তাদের দেখাদেখি এ সেক্টরে আরো লোকজন এগিয়ে আসবে।

নোয়াখালী জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট মাছের চাহিদা ৭৩ হাজার ৮০৮ মেট্রিক টন। তার মধ্যে মাছের উৎপাদন এ জেলায় ৮৫ হাজার ৮৩৭ মেট্রিক টন। আর এ বিপুল পরিমাণ মৎস্য সম্পদের উৎস ৭৪ হাজার ৯২৭ হেক্টর অভ্যন্তরীণ নদী ও মোহনা এবং প্লাবনভূমী।

Noakhali

নোয়াখালী জেলা মৎস্য অফিসার মিজানুর রহমান ছিদ্দিকী জাগো নিউজকে জানান, গত বছর বন্যায় মাছচাষিদের ক্ষয়ক্ষতি  নিরুপণ করে তারা একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। তবে সেভাবে মাছচাষিদের আর্থিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করার সুযোগ না থাকলেও জেলা মৎস অফিসের পক্ষ থেকে সব সময় বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছচাষে লাভবান হওয়ার ধারণা দেয়া হয়েছে।

আর তাদের দেয়া সে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে অনেকে এখন ধানের পরিবর্তে মাছ চাষ করছেন। কারণ বাজারে মাছের চাহিদা প্রচুর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানার মাছ এখস রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়। এতে তারা ভালো দাম পাচ্ছেন।

এফএ/এমএস