একজন সফল মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম
১৯৭১ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে রনাঙ্গণে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন এমনি একজন সফল মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম।
শরিফুল ইসলাম ১৯৫৫ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর নারায়নপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৃত জিয়ারত বিশ্বাস। তিনি ৮নং সেক্টরে সেক্টর কমান্ডার মেজর মুঞ্জুরের অধিনে যুদ্ধ করেছেন।
তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের শেষের দিকে গ্রুপ কমান্ডার মশিউর রহমান এর নেতৃত্বে ঝিনাইদহ শৈলকুপা এবং হরিণাকুন্ডুর প্রায় ১৫-২০ জন যুবক ভারতের শিকারপুর ক্যাম্পে ট্রেনিং এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে ১০ দিন ট্রেনিং করার পর ডোমপুকুর ট্রেনিং ক্যাম্পে ১৫ দিন ট্রেনিং করেন।
এরপর বিহার চাকুলিয়া ক্যান্টনমেন্টে মেজর ভোলা (সংক্ষিপ্ত নাম) এর অধিনে ৪১ দিন ট্রেনিং শেষ করার পর বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে ভারতের বনগাঁ ক্যাম্পে ১০দিন অবস্থান করেন। এই ক্যাম্পে মেজর বাজুয়া সিং তাদের পুনরায় ট্রেনিং পরিদর্শন করেন এবং নতুন নতুন কৌশল শিখিয়ে দেন।
এভাবে প্রায় আড়াই মাস পর গ্রুপ কমান্ডারের নেতৃত্বে ঝিনাইদহের ১৫-১৬ জন মুক্তিযোদ্ধা একসঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আসে এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহামায়া গ্রামে এক হিন্দুদের ফেলে যাওয়া বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখান থেকেই তারা স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর উপর হামলা চালান।
এসময় রাজাকারদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ৭ জন রাজাকার নিহত হয়। গ্রুপ কমান্ডার মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এই যুদ্ধ চলে। যুদ্ধশেষে একই উপজেলার গেড়ামারা গ্রামে এসে বিশ্রাম নিয়ে দিনশেষে ওই রাতেই পার্শ্ববর্তী কাতলামারী ঘাট পার হয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় অবস্থান করেন।
সেখানে ১দিন অবস্থান করার পর শৈলকুপার ত্রিপাকান্দি গ্রামে এসে ক্যাম্প করেন। ক্যাম্পে ৪-৫দিন অবস্থান করার পর একই উপজেলার হাট ফাজিলপুর বাজারের পূর্বপাশে বিলের মধ্যে ক্যাম্প করে ৫ দিন অবস্থান করে শৈলকুপা থানা আক্রমণ করেন। কিন্তুু খবরটি আগে থেকেই জেনে যাওয়ার কারণে ওই আক্রমণ তেমন সফল হয়নি।
থানা আক্রমণ শেষে তারা স্বদলবলে আবার ওই ক্যাম্পে ফিরে যান। শৈলকুপায় মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি গ্রুপ রেখে আমরা হরিণাকুন্ডু উপজেলার দিকে অগ্রসর হন।
তিনি জানান, ১০-১১ জন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে স্থানীয় আরও কিছু মুক্তিপাগল জনতা হরিণাকুন্ডুর রসুনপুর গ্রামে অবস্থান নেন। রসুনপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান করছেন জেনে রাজাকাররা লুটপাট আরম্ভ করে। এই অবস্থায় তাদের প্রতিরোধ করতে চাইলে পাকিস্তানি খানসেনা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ৮ জন পাকসেনা এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন।
শরিফুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। এই সরকারে আমলে মুক্তিযোদ্ধারা সরকারিভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে সঙ্গে জুটেছে সম্মানি ভাতা। তবে অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখনো ন্যূনতম সরকারি স্বীকৃতিটুকুও পায়নি। তাদের কাছে এখন সেগুলো শুধুই স্মৃতি।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস