ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফেনী মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশিত: ০৭:৪৭ এএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬

ফেনী মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে  মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ফেনীর মাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন।

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর বাহিনীর নৃশংস বর্বরতায় ক্ষত-বিক্ষত ফেনী শহরে স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালিরা বিজয়ের নিশান উড়িয়ে উল্লাস করে স্বজন হারানোর কান্না ভুলে গিয়েছিল এদিনে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ফেনীতে চিহ্নিত আটটি বধ্যভূমি সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই।

Feni

এদিকে ফেনী মুক্ত দিবস যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে জেলা প্রশাসন ,মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। বেলা ১১ টায় ফেনী জিরো পয়েন্টে এক হাজার মিটার দীর্ঘ পতাকা মিছিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধকালে ফেনী অঞ্চলের মুক্তিবাহিনীর অধিনায়ক ক্যাপ্টেন জাফর ইমাম বীর বিক্রম ভারতের বিলোনীয়া ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল থেকে ১০ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অভিযান চালান।এসময় বিলোনিয়া, পরশুরাম, মুন্সিরহাট, ফুলগাজী হয়ে যুদ্ধ করতে করতে এগোতে থাকলে পর্যুদস্ত হয়ে ফেনীর পাকহানাদার বাহিনীর একটি অংশ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী হয়ে কুমিল্লা সেনানিবাসের রাস্তা ধরে এবং অপর অংশ শুভপুর ব্রিজের ওপর দিয়ে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যায়।

অপরদিকে মুজিব বাহিনীর (বিএলএফ) ফেনী মহোকুমা কমান্ডার বর্তমান ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা দাগনভুইয়া, রাজাপুর, সিন্দুরপুর হয়ে শহরের দিকে এগোতে থাকে।

মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পাকহানাদাররা ৫ ডিসেম্বর রাতে কুমিল্লার দিকে পালিয়ে যায়। সে সময় ফেনী অবাঙ্গালি মহোকুমার প্রশাসক বেলাল এ. খানও পাকবাহিনীর সঙ্গে চলে যান।

ফেনী হানাদার মুক্ত হওয়ার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক ও রেল পথে হানাদার বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

মুক্তিযুদ্ধে ফেনীর মুন্সির হাটের মুক্তারবাড়ী ও বন্ধুয়ার প্রতিরোধ যুদ্ধ ইতিহাসে সমাদৃত। এ রণাঙ্গনে সম্মুখ যুদ্ধকৌশল বাংলাদেশ, ভারত, ও পাকিস্তানি মিলিটারি একাডেমিগুলোতে পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা এ রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের অহংকার ও গর্বের বিষয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ফেনী সরকারি কলেজ, তৎকালীন সিও অফিসসহ কয়েককটি স্থানে স্বাধীনতাকামী নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে আটটি বধ্যভূমিতে শহীদদের লাশ শনাক্ত করতে ছুটে বেড়িয়েছিল স্বজনহারারা। মুত্তিযোদ্ধারা জেলায় সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি (বর্তমানে ফেনী কলেজের কলা ভবনের পেছনে) শনাক্ত করলেও আজও তা সংরক্ষণ করা হয়নি। বর্তমানে এখানে প্রতিনিয়ত ফেনী সরকারি কলেজের পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য ফেলা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব বলেন, অমর শহীদদের স্মৃতির ভাস্কর হিসেবে শহরের জেল রোডের পাশে বীর শহীদদের নামের তালিকা সম্মিলিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও কয়েক বছরে স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অস্পষ্ট হয়ে মুছে গেছে।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজ অভিযোগ করে বলেন, ফেনী সরকারি কলেজে মাঠে বধ্যভূমির পাশে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও রাতে এখানে বসে মাদকের আড্ডা।

 ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান জানান, একাত্তরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণে প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই এগুলো সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে।

আরএআর/জেআই