ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উদ্বোধনের পর থেকেই পরিত্যক্ত ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি বাজারগুলো

প্রকাশিত: ০৪:৪৮ এএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬

ঠাকুরগাঁও জেলায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট কোনো পাইকারি বাজার নেই। উৎপাদিত পণ্য কৃষকের সরাসরি বিক্রির জন্য জেলায় ৬টি গ্রোয়ার্স মার্কেট বা কৃষি বাজার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে এই কৃষি বাজারগুলো।

ঠাকুগাঁও জেলার ৮০ ভাগ মানুষই সরাসরি কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। এ জেলায় প্রায় সকল ফসলই কম-বেশি উৎপাদিত হয়। কিন্তু কৃষক সে অনুসারে মূল্য পায় না।

সেকারণেই ২০০৭ সালে এনসিডিপির আওতায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলায় ৬টি গ্রোয়ার্স মার্কেট (কৃষি বাজার) নির্মাণ করে জেলা মার্কেটিং অধিদফতর। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই মার্কেটগুলো অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে।

অনেক কৃষক জানান, এসব গ্রোয়ার্স মার্কেট (কৃষি বাজার) বর্তমানে ধ্বংসের পথে। উদ্বোধনের পর থেকে মার্কেটগুলো আর চালু হয়নি। সরকার চালুর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপও নেয়নি।

Thakurgoan

এছাড়াও মার্কেটগুলো যে স্থানে করা হয়েছে তার আশে পাশে অনেক মার্কেট গড়ে ওঠার কারণে এখন গ্রোয়ার্স মার্কেট (কৃষি বাজার) গুলোকেও আর ব্যবহার করছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি উদ্দোগ গ্রহণ করা হয় তাহলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব মার্কেট রক্ষা করা সম্ভব।

খোচাবাড়ি বাজারের দোকানদার আব্দুস সালাম জানান, এই মার্কেটটি করা হয়েছে কৃষকদের জন্য। কিন্তু কোনো তদারকি বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কেউ না থাকায় এগুলো এখন পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। তবে মার্কেটগুলো সংরক্ষণের ও চালুর ব্যবস্থা করা হলে কৃষক এখানে বাজর বসিয়ে লাভবান হতে পারবে।

উল্লেখ্য, এই সব বাজারের মূল লক্ষ্য ছিল কৃষক কম দামে যে পণ্য বিক্রি করবে তার সুফল যেন ভোক্তারা পায়। কিন্তু মাঠ থেকে আড়ৎ পর্যন্ত কয়েক স্তরে হাত বদল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে পণ্যের দাম। সেই মধ্যস্বত্তভোগী ফড়িয়াদের বেধে দেয়া দামেই ক্রেতাদের তা কিনতে হয়। তাই কৃষক ও ভোক্তা যেন সহজেই কৃষি পণ্য কিনতে বা বিক্রি করতে পারে সেটাই মূল লক্ষ্য।

Thakurgoan

জেলায় অনেকে অভিমত দিয়েছেন যে এই সকল কৃষি বাজার যদি পুনরায় চালু করা যায় তাহলে একদিকে যেমন কৃষক তার পণ্যের ভাল দাম পাবে অপরদিকে ভোক্তাও মানসম্পন্ন পণ্য ক্রয় করতে পারবে।

তাই প্রয়োজনীয় সংখ্যক খাদ্য গুদাম ও হিমাগার তৈরি করে ধান-চাল, গম-ভুট্টা, শস্যাদিসহ তরিতরকারি, ফলফলাদি ও শাকসবজি ইত্যাদি সংরক্ষণ করা হলে একদিকে যেমন দেশের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে পাশাপাশি তা বিদেশে রফতানি করে লাখ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

ঠাকুরগাঁও জেলা মার্কেটিং অফিসার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০০১ সালে এনসিডিপি প্রজেক্ট এর মাধ্যমে এই মার্কেটগুলো তৈরি করা হয়। কিন্তু এই প্রজেক্ট ২০০৮ সালে শেষ হওয়ার পর থেকে আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অনেকবার এই মার্কেটগুলো চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও আর চালু করা সম্ভব হয়নি।  

এফএ/পিআর