ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীনের ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: ০৬:৪৩ এএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৬

১৪ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীরের ৪৫তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মহানায়ক বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর যুদ্ধরত অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রেহাইচর এলাকায় শহীদ হয়েছিলেন।

ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর ১৯৪৫ সালের ৬ মার্চ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে মুলাদী মাহবুদজান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। বরিশাল বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন।

ওই বছরই তিনি ক্যাডেট হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনিতে যোগদান করেন। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন এবং ১৭৩ মূলতান ইঞ্জিনিয়ারিং বাটালিয়নে যোগদান করেন।

ছয় মাস পর তাকে রিসালপুর মিলিটারি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং এ বদলি করা হয়। ১৯৭১ সালে কারা কোরামে কর্মরত থাকাকালীন ১৫ দিন ছুটি নিয়ে রিসালপুরে ফিরে যান। একদিন পর শিয়ালকোট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মোহদীপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগ দেন। তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে যুদ্ধের দায়িত্ব দেয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধে ক্রমাগত সফলতায়  মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে। বরিশালের টগবগে তরুণ সামরিক অফিসার জাহাঙ্গীরের সর্বক্ষণ একটাই চিন্তা মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করা।

১৪ ডিসেম্বর তিনি সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের রেহাইচরে। তিনি ছিলেন ৭নং সেক্টরের মোহদীপুর সাব সেক্টর কমান্ডার। ওই সময় ৭নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন লে. কর্নেল কাজী নুরুজ্জামান।

১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর তার বাহিনী নিয়ে কয়েকটি নৌকায় করে মহনন্দা নদী পার হয়ে শহরের রেহাইচরে অবস্থান নেন। মহানন্দা নদীর দক্ষিণ পাশে বর্তমান সেতুর প্রান্ত সীমায় ছিল পাকিস্তান সেনাদের ঘাঁটি। সেখানে সন্মুখ যুদ্ধে ১৪ ডিসেম্বর মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীর শহীদ হন।

পরদিন ১৫ ডিসেম্বর সোনামসজিদ চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের আরেক বীরযোদ্ধা শহীদ মেজর নাজমুল হকের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
    
এদিকে ক্যাপ্টেন মহীউদ্দীন জাহাঙ্গীরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।

বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ভবন চত্বরে অবস্থিত ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর স্মৃতিসৌধে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে বাংলার এ বীর সন্তানকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

পুষ্পার্ঘ অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টি.এম মোজাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ।

এসময় শহীদ জাহাঙ্গীরের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

আব্দুল­াহ/এফএ/পিআর