ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জমে উঠেছে গরীবের শীতবস্ত্র শপিং কমপ্লেক্স

প্রকাশিত: ০৪:১৭ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬

শীতের তীব্রতা বাড়ছে টাঙ্গাইলে। এই শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত এখন এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ। আর সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই নিন্ম আয়ের মানুষগুলোও। তাই শীতকে সামনে রেখে জমে উঠেছে টাঙ্গাইলের আদালত সন্নিকটে অবস্থিত পুরাতন শীতবস্ত্র মার্কেটটি।

টাঙ্গাইল আদালত চত্বরের প্রবেশ দ্বার ও রাস্তার বিপরীত পাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী এ মার্কেট দুটি ইতোমধ্যে জেলা জুড়ে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে ডিসি প্লাজা নামে।

কাপড় কিনতে আসা ক্রেতারাই এই নামকরণ করেছে। তাদের মতে ডিসি প্লাজা বললে আর কাউকে স্থানটি চিনাতে হয় না। এক নামেই চিনে নেয় সবাই এটিকে।

এছাড়াও আদালত চত্বর ও টাঙ্গাইলের একমাত্র পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র ডিসি লেক এর সামনে এর অবস্থান হওয়ায় অনেকেই এখন এটিকে ডিসি লেক শপিং কমপ্লেক্স বলে আখ্যায়িত করেন।

পৌষ ও মাঘ মাসের হাড় কাঁপানো শীতকে সামনে রেখে এখানে গরম পোশাক কিনছে সবাই। উচ্চ আয়ের মানুষেরা বিভিন্ন নামি দামি মার্কেটে গরম কাপড় ক্রয় করতে পারলেও নিন্ম আয়ের মানুষের একমাত্র ভরসা এই ডিসি প্লাজা মার্কেট।

এটি নিন্ম আয়ের মানুষের মার্কেট বলে পরিচিত হলেও এখানে মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনও কেনাকাটা করতে আসে। প্রতিবছর শীতের মৌসুম এলেই ডিসি প্লাজার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে হরেক রকমের শীতের পোশাক নিয়ে চলে আসেন এ মার্কেটে।

Tangail

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতা বিক্রেতাদের পদচারণায় ব্যস্ততম থাকে এ মার্কেট প্রাঙ্গণ।

সরেজমিনে কথা হয় ক্রেতা ও পাড়দিঘুলিয়া এলাকার গৃহিণী ফরিদা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় প্রতি বছরই এই মার্কেটে তিনি পরিবারের সদস্যদের জন্য শীতবস্ত্র কিনতে আসেন। অনেক অল্প টাকায় ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায় বলে এখানে আসেন তিনি।

তিনি একশ টাকা দিয়ে মেয়ের একটি সোয়েটার ও দেড়শ টাকায় ছেলের একটি জ্যাকেট কিনেছেন। এখন নিজেরটা কেনার জন্য ঘুরছেন।

একই সময় কথা হয় আরেক গৃহিণী ও সাবালিয়া এলাকার লিমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই শীতবস্ত্রের চাহিদা মেটাতে এই মার্কেটে এসেছেন। কাপড় পছন্দ না হওয়ায় এখনও তার কেনা হয়নি। শহরের নামিদামি মার্কেট থেকে প্রতি বছর কেনা সম্ভব না বলেই এখানে আসা। তবে এ বছর পছন্দনীয় তেমন একটা কাপড় ওঠেনি বলে অভিযোগ তার।

অপর একজন ক্রেতা ও রিকশাচালক রহিম মিয়া জানান, শীতের শুরুতেই সকাল ও সন্ধ্যার পরে যে ঠাণ্ডা পড়া শুরু হচ্ছে, জানি না সামনে কী আছে? শীত হইলে গরীবের কী, কাম তো কৈইরা খাইতে হইবো? তাই মোটা কাপড় কিনবার আইছি। দেহি কী কেনন যায়।

Tangail

মার্কেটের মৌসুমি কাপড় ব্যবসায়ী মো. শাহ্ আলম মিয়া বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমরা চট্টগাম এর আলম মার্কেট থেকে এই পুরাতন পোশাকের গাইট (বস্তা) কিনে এনে ব্যবসা করি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পুরাতন কাপড়গুলো চট্টগ্রামে আসে ও সেখান থেকে এই গাইট (বস্তা) আকারে বিক্রি হয়।

তিনি আরো জানান, গাইটের মধ্যে পুরুষের কোর্ট, জ্যাকেট, সোয়েটার, মাপলার, টুপি, হাত মুজা, পা মুজা ও নারীদের চাদর, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগসহ আরো বিভিন্ন ধরনের উপকরণ থাকে। কোয়ালিটির উপর নির্ধারণ করে একেকটি গাইট। প্রতি গাইটে প্রায় শতাধিক কাপড় থাকে। এর মধ্যে কোর্টের গাইটের মূল্য রয়েছে ৭ থেকে ২০ হাজার, জ্যাকেট ৮ থেকে ১৫ হাজার, সোয়েটার ৫ থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত।

প্রতিবছরই টাঙ্গাইলের কোর্ট চত্বর এলাকার এই ডিসি প্লাজা মাকের্টে ব্যবসা করি। এর আগে এই স্থানে কাপড় বিক্রি হলেও তেমন একটা জমে উঠতো না। বেচা বিক্রি ছিল স্বাভাবিক। লাভ হতো নাম মাত্র। এ মার্কেটে ব্যবসায়ী রয়েছে দুই শতাধিক। তবে বিনোদন কেন্দ্র ডিসি লেক হওয়ায় এখানে জেলার বিভিন্ন উপজেলার দর্শনার্থী আসছে অনেক বেশি। তারা এখানে বেড়াতে আসার পাশাপাশি শীতের কাপড়ও কিনছে। এতে বিক্রিও ভাল হচ্ছে।

এফএ/এমএস