ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেনাপোল কাস্টমসে লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব আদায়

প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ৮ হাজার ৩৫৯ দশমিক ৬ মেট্রিক টন পণ্য বেশি আমদানি হয়েছে।

গত অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ১০ হাজার ২৪৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন পণ্য। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬০২ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন।

এতে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ৫০০ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৩৮৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সেখানে বেশি আদায় হয়েছে ২ হাজার ৮৯০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে আমদানি হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৪২ মেট্রিক টন পণ্য, আগস্টে ৭৬ হাজার ৮৩২ দশমিক ৬১ মেট্রিক টন, সেপ্টেম্বর মাসে ৫৫ হাজার ৩৫৩ দশমিক ১২ মেট্রিক টন, অক্টোবর মাসে আমদানি হয়েছে ৬৮ হাজার ৮৭০ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন এবং নভেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৮ দশমিক ৪৯ মেট্রিক টন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, আমদানিকারকরা কমপক্ষে ২ মাস আগে পণ্য আমদানির এলসি খুলে থাকেন। যে কারণে গত মাসে ঘোষণাকৃত পণ্য তারা আনতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জোর করে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক বাড়িয়ে চলেছেন।

এতে করে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তাদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। যে কারণে পরবর্তীতে এলসি দিতে পারছেন না। যার প্রভাব আগামীতে পড়বে।

তিনি বলেন, হয়রানি বন্ধ, বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবিকৃত ক্লিয়ারিং হাউস চালু হলে আমদানি-রফতানি আরও বাড়বে।

জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দরের অধিকাংশ ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া। আমদানিকারকরা বন্দর থেকে সময়মতো তাদের পণ্য খালাস করতে না পারায় বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যজট। বন্দরের গুদাম থেকে পণ্য বের করার পর নতুন পণ্য ঢোকাতে হচ্ছে।

জায়গার এ সংকটের কারণে পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর ও খালাসের অনুমতি মিললেও ক্রেন মিলছে না। ফলে জায়গা ও ক্রেন সংকটে বিপাকে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বন্দর ব্যবহারকারীদের মেশিনারিসহ ভারি মালামাল লোড-আনলোডের সময় দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থাকতে হয় সিরিয়াল দিয়ে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. শওকাত হোসেন বলেন, আমাদের উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যে আমদানি বেড়েছে। যে কারণে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া আমদানি বাড়ানোর জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা ব্যবসায়ীদের দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে তারা হয়রানি ছাড়া পণ্য আনতে পারেন। বেনাপোলকে আরও গতিশিল করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।

এ ব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি বেশি করে থাকেন। কেননা এ সময় ব্যবসার জন্য ভালো সময় থাকে। বিশেষ করে গাড়ি আমদানি বেশি হয়ে থাকে।

তা ছাড়া কাস্টম শুল্কহার বাড়ানোর কারণে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলেও ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে সরকার পণ্যের শুল্কহার ও মূল্য যৌক্তিকিকরণ করলে আমদানির হার আরও বাড়তে থাকবে।

মো. জামাল হোসেন/এএম/পিআর