ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অবাধে বালু উত্তোলন : হুমকির মুখে সড়ক ও রেল সেতু

প্রকাশিত: ০৬:৫০ এএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৬

বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কের টাঙ্গাইলের পৌলী নদী থেকে ড্রেজার বসিয়ে ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এর ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক ও রেল সেতু। দীর্ঘদিনের এ বালু উত্তোলনের ফলে সেতুর উভয় পাশের মাটি সরে যাচ্ছে। যে কোনো সময় সেতুটি ধসে পড়তে বলে শঙ্কা এলাকাবাসীর।

এছাড়াও অবাধে এই বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকা ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভিটেবাড়ি ছাড়া হয়েছে দেড় শতাধিক পরিবার। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় এই বালু উত্তোলন আরও বেপরোয়া রূপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

সরেজমিন দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার পৌলী নদীর ওপর ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত সড়ক ও রেল সেতুর অদূরে বসেছে ড্রেজারের মেলা। নদীর বুকে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি ড্রেজার বসিয়ে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে চলছে এই বালু উত্তোলন কার্যক্রম। এর নেতৃত্বে রয়েছে টাঙ্গাইলের কার্জন ও শাকিল, পৌলী গ্রামের শফিক, নূর মোহাম্মদ, সুশান্ত ঘোষ, নাজিম, শুকু ঘোষ, মান্নান ও সুজন, রাজাবাড়ী গ্রামের হাসমত আলী, মহেলা গ্রামের হাবিল, তোফাজ্জল, মনির, কাদের ও ফরমানসহ বেশ কয়েকজন।

Tangail

আর স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ আর তাদের প্রভাবেই দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে এই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি। ক্ষমতাসীন দলের এসব প্রভাবশালীদের ভয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করছে না কেউ। পৌলী নদী থেকে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে এদের অনেকেই এখন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে।

দিনরাত বিরামহীন বালুভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে পৌলী ও মহেলা গ্রামের একমাত্র পাকা রাস্তাটি ভেঙে এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। এছাড়াও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি দুই বার তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইন ভেসে উঠে টাঙ্গাইল, গাজিপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় জেলাগুলোর সাধারণ জনগণকে।

ওই সময় নদীতে নৌচলাচল ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পাইপ লাইন মেরামত হওয়ার পর কোনো অদৃশ্য প্রভাবে আবার ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন শুরু করেছে প্রভাবশালীরা। সেতুর পাশাপাশি জাতীয় এই গ্যাসপাইপ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে লোক দেখানোর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা হলেও নদী থেকে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয় না। অভিযান শেষেই আবার শুরু হয় এই বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এ কারণে অভিযোগ বা প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয় না। বরং প্রতিবাদ করতে গিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের হাতে নাজেহাল হতে হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

Tangail

এ প্রসঙ্গে মহেলা গ্রামের স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ফরমান ও মনির জানান, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নদীতে চলে গেছে। সেখান থেকেই তারা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এ ব্যবসায় শুধু তারা লাভবান নয় ড্রেজার বসিয়ে এই বালু উত্তোলন কাজে লিপ্ত অসংখ্য ব্যক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী জানান, বালু উত্তোলনে তাদেরকে প্রশাসন কোনো অনুমতি দেয়নি এটা সত্য। তবে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ ব্যবসা থেকে তারা রাজনৈতিক নেতা ও মসজিদ-মাদরাসায়ও  টাকা দিয়ে থাকেন বলেও দাবি তাদের।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এরপরও এই বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিগগিরই এটি বন্ধে বড় ধরণের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ বলেন, পৌলী নদী থেকে মাটি কাটার জন্য আমরা কাউকে অনুমতি দেইনি। এরপরও মাটি কেটে যারা বিক্রি করছে তারা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এটি করছেন।

আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/জেআই