বান্দরবানে কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনায় যুবক গ্রেফতার
বান্দরবানে রাজপূণ্যাহ মেলায় বেড়াতে এসে আদিবাসী কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় কাজল বড়ুয়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে জেলা শহরের মধ্যমপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শহরের শাপলা চত্বরের পর পৌরসভার শিশু পার্কের জন্য নির্ধারিত স্থানে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভিকটিম ও তার প্রেমিক ধর্ষকদের না চিনলেও ঘটনার সময় একজনের নাম কাজল ও অন্যজন নিজেকে জুয়েল নাম পরিচয় দেয়াতে এই দুইজনের নাম বলতে পারে। পরে বালাঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাজল বড়ুয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কাজল বালাঘাটা এলাকায় কাজল মুন্ডি হাউসের (পাহাড়ি খাবার) মালিক বলে জানা গেছে।
ভিকটিমের প্রেমিকের ভাষ্য, শুক্রবার রাতে তারা বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী খাজনা আদায় অনুষ্ঠান রাজপূণ্যাহ মেলায় আসেন। রাত ১১টার দিকে হাঁটতে হাঁটতে রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন এলাকার কাছাকাছি পৌরসভার শিশু পার্কের নির্ধারিত স্থানের কাছে পৌঁছান। এ সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে প্রেমিকাকে রেখে নির্জন জায়গায় যান। ফিরে এসে দেখেন চারজন যুবক তার প্রেমিকাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রতিবাদ জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। তাদের একজন নিজেকে যুবলীগের নেতা জুয়েল পরিচয় দিয়ে তাদের কিছুই করতে পারবে না বলে ভয় দেখায়। ওই চার যুবককেতারা চেনেন না । নিজেদের মধ্যে কথাবলার সময় একজন অন্যজনকে কাজল নামে ডাকছিল। এক পর্যায়ে ওই চার যুবক তার প্রেমিকাকে কুপ্রস্তাব দেয়।
এতে রাজি না হওয়ায় জোর করে দুই যুবক তার প্রেমিকাকে শিশু পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গাতে তুলে নিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকেও অন্য দুই যুবক বেঁধে ফেলে। এরপর তার প্রেমিকার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় চার যুবক।
এদিকে ভিকটিমের মামাতো বোন থুইঞাইনু মারমা বলেন, শনিবার সকালে ভিকটিম বান্দরবান সদর থানায় উপস্থিত হয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
বান্দরবান সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ জানান, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় কাজল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে । বাকিদেরও গ্রেফতার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
সৈকত দাশ/আরএআর/জেআইএম