ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পুলিশি তল্লাশির নামে অভিনব চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬

শরীর তল্লাশির নামে সাধারণ মানুষকে ফাঁসিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিনব বাণিজ্য শুরু করেছে বগুড়ার ভিআইপি এলাকা ফুলবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ। চলছে লোক দেখানো গ্রেফতার বাণিজ্য। ৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় দফারফা শেষে রাতেই মুক্ত হচ্ছে ফেঁসে যাওয়া ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রবিউল ইসলাম। তার সঙ্গে ওই ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যরাও রয়েছে একই কাজে।

তাদের বিরুদ্ধে তল্লাশির নামে শরীরে মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে দিয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানায়, ওই ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এ ‘গ্রেফতার বাণিজ্য’ চালাচ্ছে। দাবি করা চাঁদা না পেলে তারা বসত-বাড়িতে তল্লাশির নামে ভাঙচুর ও লুটপাট করতেও দ্বিধা করছে না।

পুলিশের হাতে নির্যাতিত এলাকাবাসীর পক্ষে সোমবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে শহরের মুগলিশপুরসহ পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ি, জয়পুরপাড়া এবং মাটিডালি এলাকার নির্যাতিত অর্ধশত নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

চার মহল্লাবাসীর পক্ষে সীমা রাণী মোহন্ত নামের এক নারী অভিযোগ করে বলেন, ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রবিউল ইসলাম ও এটিএসআই বদিসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা প্রতিদিন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়।

এ সময় শরীর তল্লাশির নামে এলাকার নিরীহ লোকজনদের পকেটে ইয়াবা ও গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে দেন তারা। এরপর ফাঁড়িতে নিয়ে এসে টাকা দাবি করেন। যারা তাদের দাবি করা টাকা দিতে পারে তাদের সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু যারা টাকা দিতে পারে না তাদের ফাঁড়িতে আটক রেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়।

পরিবারের সদস্যরাও টাকা না দিলে আটক লোকজনদের বিরুদ্ধে মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়া হয় কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

সীমা রাণী মোহন্ত অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই উজ্জ্বল গত ২২ ডিসেম্বর রাতে ভোলা ও সানোয়ার নামে দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাতে বাড়ির সামনে পৌঁছার পর এসআই রবিউলসহ ফুলবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ওই তিনজনকে আটক করে।

পরে তল্লাশি করে কোন কিছু পাওয়া না গেলেও তাদেরকে ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। এরপর ওই তিনজনের পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়।

আটক তিন ব্যক্তির মধ্যে অর্থের বিনিময়ে ভোলা এবং সানোয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হলেও উজ্জ্বলকে আটক রাখা হয়।

তিনি বলেন, আমরা টাকা দিতে না পাারায় পুলিশ আমার ভাই উজ্জ্বলের পকেটে ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

অথচ মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তারা ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না। এ ধরনের আরও শতশত অভিযোগ রয়েছে এই ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। তবে হয়রানি এবং হুমকি ধামকির কারণে অনেকে মুখ খোলে না।

জানতে চাইলে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রবিউল ইসলাম তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, মুগলিশপুরসহ অন্যান্য এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর কারণে স্থানীয় একটি চক্র পুলিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যারা মাদক ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছে না তারা নানাভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয় বলেও জানান তিনি।

লিমন বাসার/এএম/জেআইএম