স্কুলছাত্রের মরদেহের সন্ধানে তিতাস নদীতে তল্লাশি
ফাইল ছবি
কুমিল্লায় হৃদয় নামের এক স্কুলছাত্রকে খুনের পর মরদেহ তিতাস নদীতে ফেলে দিয়েছে অপহরণকারীরা। অপহরণের পর হৃদয়ের বাবার মোবাইল ফোনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল অপহরণকারী চক্র। এ ঘটনা পুলিশকে জানালে তাকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছিল।
গত ২১ ডিসেম্বর জেলার তিতাসে ওই অপহরণের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেয়ে এ ঘটনায় পুলিশ রোববার গভীর রাতে চার অপহরণকারীকে আটক করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সোমবার সকাল থেকে পুলিশ মরদেহের সন্ধানে তিতাস নদীতে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর বিকেলে তিতাসের বলরামপুর ইউনিয়নের মধ্যে আকালিয়া গ্রামের পাশে খেলার মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য নিহত স্কুলছাত্রের ফুফাতো বোনের ছেলে মাহিন বাড়ি থেকে স্কুলছাত্র হৃদয়কে ডেকে নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার পরও সে বাড়ি ফিরে না আসায় তখন তার বাবা-মা স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ করতে থাকেন।
পরের দিন একটি মোবাইল ফোন থেকে হৃদয় অপহরণকারীদের হেফাজতে রয়েছে এবং ছেলেকে ফেরত পেতে হলে তার বাবার নিকট ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে হৃদয়কে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় ২৩ ডিসেম্বর হৃদয়ের বাবা বশির আহমেদ বাদী হয়ে তিতাস থানায় মামলা দায়ের করেন। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই গত রোববার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অপহরণের অভিযোগে একই উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি মেম্বার রেনু মিয়ার ছেলে রিয়াদ হোসেন (২০), আকালিয়া গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩০), গুনপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে সাকিব (২২) ও নজরুল ইসলামের ছেলে মহিন আহমেদকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তিতাস থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. শহিদুল হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হৃদয়কে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে। অপহরণকারীদের দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা হৃদয়কে হত্যা করে বস্তা ভরে মরদেহ তিতাস নদীতে ফেলে দেয়। পুলিশ নিহত হৃদয়ের লাশ উদ্ধারে তিতাস নদীতে ডুবুরি দিয়ে তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছে।
তিতাস থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তিতাস নদীতে ডুবুরি দিয়ে মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
মো. কামাল উদ্দিন/আরএআর/জেআইএম