ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এখন আমি কী করবো?

প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬

ইসরাফিল ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ। তার উপার্জন দিয়েই বৃদ্ধ বাবা ও স্ত্রী-ছেলে নিয়ে সংসার চলতো। জীবন চলার পথে হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় ইসরাফিল মারা যাওয়ায় স্ত্রী ফাতেমার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। পুরো পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মুড়াকলিয়া গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা খাতুন (২১)। তিন বছর বয়সী একমাত্র ছেলে আরাফাত হোসেন। স্বামী ইসরাফিল হোসেন (২৫) গত ২৪ ডিসেম্বর তালার মির্জাপুর বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

ফাতেমা খাতুন ভারাক্রান্ত মনে জাগো নিউজকে বলেন, পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আমাদের। সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী মারা গেলো। স্বামীর রোজগারেই চলতো আমাদের সংসার। শাশুড়ি নেই। শ্বশুর বৃদ্ধ মানুষ, চলাফেরা করতে পারে না। ছেলে আরাফাত ও শ্বশুরকে নিয়ে এখন কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না।

‘তবে আমি স্বামীর সংসার ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চাই না। ছেলে আরাফাতকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে চাই। আমাদের সংসারে অভাব থাকলেও ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না’ যোগ করেন ফাতেমা খাতুন।

satkhira

উচ্চ মাধ্যমিক পাস ফাতেমা খাতুন জাগো নিউজকে আরও বলেন, ২০১১ সালের বন্যায় বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার পর তালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বেসরকারি সংস্থা থেকে একটি ঘর দিয়েছিলেন। সে ঘরে বসবাস করছি।

বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির দাবি জানিয়ে বলেন, যে কোনো একটি চাকরি হলে আমি কাজ করে সংসার চালাতে পারবো। শ্বশুর ও ছেলের দেখাশোনা করতে পারবো। ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে পারবো।

এজন্য তিনি সমাজের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, মানবিক ও বিবেকবান মানুষের সহায়তা কামনা করেছেন।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ওই নারীকে একটি ভিজিডি কার্ড করে দেয়ার জন্য তালা সদর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো বেসরকারি সংস্থায় একটি চাকরির ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটিও চেষ্টা করছি।

আকরামুল ইসলাম/এএম/পিআর