‘পোস্ট ই-সেন্টার’ এ ফিরেছে প্রাণ
দেশের ডাকঘরগুলোর আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও ইমেজ বৃদ্ধিতে একাধিক উদ্যোগ বা প্রকল্প গ্রহণ করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ডাকঘরগুলোকে জনপ্রিয় করতে চালু হয়েছে পোস্ট ই-সেন্টার।
এরই অংশ হিসেবে সরকারি সহযোগিতায় ব্যবসা করে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে যুক্ত হয়েছেন পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার ৩৬২ জন উদ্যোক্তা। এতে একদিকে যেমন পটুয়াখালীর ডাকঘরের প্রাণ ফিরেছে তেমন অনেকের ভাগ্যবদল হয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘গ্রামীণ জনসাধারণের জন্য পোস্ট ই-সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পে ৩৬২ জন উদ্যোক্তা ই-সেন্টারের মাধ্যমে সুযোগ পাচ্ছেন জনসাধারণকে ডিজিটাল সেবা দেয়ার। তবে সরকারিভাবে ব্যাপক প্রচার প্রচারণারও পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ইডিএ আমখোলা বিও পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার হিসেবে চাকরি পেয়েছেন মো. জহিরুল হক। গ্রাম্য পোস্টমাস্টারদের যে বেতন তা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কষ্টকর। তবে সরকারের দেয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখন প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
এভাবে জহিরুলের মতো আরও অনেকে পোস্ট ই-সেন্টারের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। ডাক বিভাগের চাকরি করছেন না এমন শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও পোস্ট ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।
বেকার জীবন কাটাচ্ছিলেন পটুয়াখালীর খেপুপাড়া পৌরসভার এলাকার মো. শাহরিয়ার মিরাজ। তিন ভাইবোনের মধ্যে মিরাজ বড়। তার নামের আগে এখন আর বেকার মিরাজ লাগানো হয় না। কলাপাড়া উপজেলা পোস্ট অফিসের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার সুবাদে এখন তার মাসিক আয় ৫ হাজার টাকা।
মো. শাহরিয়ার মিরাজ বলেন, মানুষ যখন জানতে পারবে পোস্ট ই-সেন্টারের মাধ্যমে ই-মেইল আদান-প্রদান, কম্পিউটার কম্পোজ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ছবি স্ক্যানিং, ছবি তোলা ও প্রিন্ট দেয়া, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কম্পিউটারভিত্তিক কাজের পাশাপাশি টাকা পাঠানো হয়। এমনকি ৪৫ টাকার বিনিময়ে পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে হিসাব খুলে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেন করা সম্ভব। তখন তাদের মতো উদ্যোক্তাদের আয়ের পরিমাণ বাড়বে। এক সময় দেখা যাবে উদ্যোক্তারা আর সরকারি চাকরি খুঁজবে না।
পটুয়াখালী ডাক বিভাগের পোস্ট ই-সেন্টারের হার্ডওয়ার টেকনিশিয়ান পবিত্র কামার বলেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতি উপজেলা হিসাবাধীন পোস্ট ই-সেন্টারে ২টি ডেক্সটপ কম্পিউটার, ২টি মাউচ, ২টি কী-বোর্ড, ১টি লেজার প্রিন্টার, ১টি ফটো প্রিন্টার, ১টি ওয়েভ ক্যাম, ১টি হেডফোন, ১টি কম্পিউটার ট্যাবিল, ১টি মুভিং চেয়ার, ২টি কাস্টমার চেয়ার, ১টি সিমসহ মডেম, ২টি এমকে ছকেট বোর্ড, ২টি মাল্টিপ্লাগ।
এছাড়া ব্রাঞ্চ অফিসের জন্য কোরাই ৫ দোয়েল ব্যান্ডের ৩টি ল্যাপটপ, ৩টি ল্যাপটপ ক্যারি ব্যাগ, ৩টি মাউচ, ৩টি কী-বোর্ড, ১টি লেজার প্রিন্টার, ১টি ফটো প্রিন্টার, ১টি সিমসহ মডেম, ৩টি এমকে ছকেট বোর্ড, ৩টি মাল্টিপাগ দেয়া হয়েছে ।
পটুয়াখালী বিভাগীয় ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল কবির আহম্মেদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি প্রকল্পের অধীনে ২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর পটুয়াখালীতে ডাকঘরকে পোস্ট ই-সেন্টারে রূপান্তর করার কাজ এগিয়ে চলছে।
এ লক্ষ্যে পটুয়াখালী সার্কেলের আওতাধীন ৩৬২টির মধ্যে ৩১২ টিকে ই-সেন্টারে পরিণত করা হয়েছে। বাকি ৫০ টিকেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ই-সেন্টারে পরিণত করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এসব ই-সেন্টারের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতাসমূহ পরিশোধ, জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম, জমির পরচা, আর্থিক সেবা, বীমা সংক্রান্ত কার্যক্রম, ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সেবা দেয়া সম্ভব হবে। প্রতিটি পোস্ট ই-সেন্টার থেকে আয়ের শতকরা ৮০ ভাগ সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং ২০ ভাগ রাজস্ব খাতে জমা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে যেসব ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নিজেই উদ্যোক্তা তিনি আয়ের বাড়তি ১০% অর্থাৎ সর্বমোট ৯০% পাবেন। এজন্য পোস্ট ই-সেন্টারের জন্য একটি নীতিমালাও তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ডাক বিভাগের একটি চুক্তি হয়েছে।
প্রতি বছরই এ চুক্তি নবায়ন হবে। পোস্ট ই-সেন্টারটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। পরবর্তীতে সেন্টারটি কীভাবে চলবে এমন ২৭টি ধারার সমন্বয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/জেআইএম