ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

স্বাচিপ নেতাদের কাছে উপেক্ষিত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

প্রকাশিত: ০২:০১ পিএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু ছালেহ মো. মুসা খানকে যোগদান করার জন্য নির্দেশ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতারা উপেক্ষা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা স্বাচিপের সভাপতি ডা. মো. আবু সাঈদ জোরপূর্বক স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক এবং আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহআলমকে সিভিল সার্জনের চেয়ারে বসিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ডা. আবু ছালেহ মো. মুসা খান।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সোমবার দিনভর সিভিল সার্জন অফিসে যোগদানের আশায় বসেছিলেন ডা. মুসা খান। সিভিল সার্জনের দায়িত্বে থাকা ডা. মো. শাহআলম এ সময়ে অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি মুসা খান স্বাস্থ্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতাদের নির্দেশে তার যোগদানে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. হাসিনা আক্তার অবসরজনিত ছুটিতে যান ২৯ শে ডিসেম্বর। ওদিন তিনি সিভিল সার্জনের দায়িত্ব আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মো. শাহআলমের কাছে বুঝিয়ে দেন।

হাসিনা আক্তার স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের কাছে সিভিল সার্জনের দায়িত্বভার হস্তান্তর বিষয়ে দেয়া পত্রে বলেন, ১৯৫৮ সালের ১ জানুয়ারি তার জন্ম তারিখ। সেই হিসাবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে আমার বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হবে।  আগামী ০১/০১/২০১৭ তারিখ থেকে অবসর-উত্তর ছুটিতে যাবো।

গত ২৭ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ডা. মুসা খানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনের চলতি দায়িত্বের আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ডা. মুসা খানকে ৩১/১২/২০১৬ তারিখের পর যোগদান করতে বলা হয়। সেই আলোকে ডা. মুসা খান সোমবার সিভিল সার্জন অফিসে যোগদান করতে যান। কিন্তু দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্জন মো. শাহআলম না থাকায় তিনি যোগদান করতে পারেননি।

ডা. মুসা খান বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)- এর নেতা বলে দায়িত্ব না দেয়ার কথা জানান দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন শাহআলম।

তবে সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, সিভিল সার্জন না থাকলে সাধারণত সদরের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

ড্যাবের নেতা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ডা. মুসা খান জাগো নিউজকে বলেন, আমি কোনো সময় ড্যাবের সঙ্গে যুক্ত নই। ড্যাবে আমার কোনো সদস্য পদও নেই। আমাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব না দেয়ার জন্যই স্বাচিপ নেতারা এখন আমাকে জোরপূর্বক ড্যাব নেতা বানাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে ডা. শাহআলমকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যদিও ডা. শাহআলমের সিভিল সার্জন হওয়ার সময় এখনো হয়নি।

তবে জেলা স্বাচিপের সভাপতি ডা. মো আবু সাঈদ বলেন, ডা. মুসা খানের অভিযোগ সঠিক নয়। ডা. শাহআলমকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেয়ার ব্যাপারে আমি কেউ নই। বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বাচিপ তদারকি করছে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহআলম বলেন, মুসা খান ড্যাবের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার নেতা ছিলেন। বিষয়টি আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবগত করেছি। মন্ত্রী সিঙ্গাপুর থেকে আসার পর বিষয়টির সুরাহা হবে।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/আরআইপি