আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভাসছে ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও জেলা জুড়ে এখন আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। মৌমাছিরা এখন আমবাগানগুলোতে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত।
গত বছর আবহাওয়ার কারণে আমচাষী ও আগাম আমবাগান ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবার মুকুলের ভারেই আমগাছের ডাল নুইয়েছে। চলতি মৌসুমে যদি বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তাহলে এবার ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে।
১৫শ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হলে ১৫০ কোটি টাকার আম বেচা-কেনা হবে। ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষকরা কৃষি উৎপাদনে একের পর এক লোকসানের মুখে পড়ায় গত একযুগ ধরে নতুন নতুন আম ও লিচু বাগান তৈরি হচ্ছে। নতুন পুরাতন মিলে এবার সব বাগানেই মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আমগাছ।
এখন আমচাষীরা কুয়াশা ও পোকার আক্রমণে মুকুল যেন নষ্ট না হয় এজন্য বিভিন্ন ধরণের ওষুধ স্প্রে করে চলেছেন। মাটি ও আবহাওয়াগত কারণেই ঠাকুরগাঁও জেলার আমের খ্যাতি প্রাচীনকাল থেকে।
জেলায় সুস্বাদু আমের মধ্যে রয়েছে গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, খিরসাপাতি, আম্রপলি, চন্দনখোসা, বোম্বাই, তিলি বোম্বাই, বেকি।
নব্বই দশকে ঠাকুরগাঁও আমবাগান ছিল ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। গত একযুগে এখানে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে নতুন নতুন আমের বাগান গড়ে উঠেছে। আগে একটি বাগানে বিভিন্ন জাতের আমগাছ লাগানো হতো। এখন যেসব বাগান তৈরি হচ্ছে তা যেকোন একটি জাতের গাছে। হিমসাগর আর আম্রপলি জাতের আমের বাগান বেশি তৈরি হচ্ছে।
আম ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, তার মতো অনেকেই ঢাকার কারওয়ান বাজারের আম ব্যবসায়ীদের টাকায় আগাম আমের বাগান কিনে থাকেন। সেসব বাগানের আম কারওয়ান বাজারের মহাজনের কাছে বিক্রি করেন। এবারও তিনি ঢাকার ব্যবসায়ীদের টাকায় কয়েকটি বাগান কিনেছেন বলে জানান।
গত তিন-চার বছর আগেও আমের অফ ইয়ার অন ইয়ার ছিল। যে বাগানে একবছর আম ধরেছে, পরের বছর সেই বাগানে আম ধরতো না। এখন বিভিন্ন ধরণের ওষুধ প্রয়োগের ফলে প্রতিটি বছরই আমের অন ইয়ার হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে মুকুল আসার আগেই বাগান বিক্রি হয়ে যায়। এবারও ব্যাপক মুকুল আসার কারণে বাগানগুলোর দাম বেশি হাঁকছে মালিকরা। বাগান কেনা-বেচা করা এমন একজন জেলা শহরের সহোরফ হোসেন। তিনি এ বছর ১০টি বাগান কিনেছেন। তিনি জানান, প্রায় কুড়ি লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা বাগানগুলো এখন পরিচর্যা করে চলেছেন।
তিনি জানান, বাগান পরিচর্যা ও আম সংগ্রহ করা পর্যন্ত আরও লাখ পাঁচেক টাকা খরচ হবে। আর প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বেচা-কেনা হবে বলেও জানান। ঢাকার মহাজনরা এসব বাগান কেনায় টাকার জোগান দেন। শর্ত থাকে আম বাজারজাতের সময় টাকা যোগানদাতার আড়তে আম বিক্রি করতে হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানান, জেলায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে এবার ১৫০ লাখ মণ আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গড়ে প্রতি মণ আম ১১শ টাকা করে বিক্রি হলে দেড়শ কোটি টাকার আম বেচা-কেনা হবে। তিনি আরও জানান, মাটি ও আবহাওয়াগত কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের আম সুস্বাদু।
এমজেড/আরআইপি