নোয়া বাহিনীর ১২ সদস্যের নামে মংলা থানায় মামলা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে নোয়া বাহিনীর ১২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।
এ নিয়ে সুন্দরবন দাঁপিয়ে বেড়ানো ৮টি বনদস্যু বাহিনীর আনুষ্ঠনিকভাবে আত্মসর্মপণ করলো। শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুয়াকাটার রাখাইন মহিলা মার্কেট মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আত্মসমর্পণের আয়োজন করে র্যাব-৮।
আত্মসর্মপণকারী নোয়া বাহিনীর ১২ সদস্যের নামে শনিবার রাতে মংলা থানায় র্যাব ৮ এর ডিএডি মো. জিয়াউল হক বাদী হয়ে দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে মামলা করে। এর আগে বনদস্যু নোয়া বাহিনীর ১২ সদস্যকে ২৫টি অস্ত্র ও এক হাজার ১০০ পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ মংলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এ নিয়ে সুন্দরবনে ছয় দফায় ৮ বনদস্যু বাহিনীর ৭২ জন সদস্য ১৬৪ টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮ হাজার ৬৩৬ রাউন্ড গুলি র্যাবের কাছে জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।
মংলা থানায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছে, বাগেরহাটের নোয়া বাহিনীর প্রধান বাকি বিল্লাহ ওরফে নোয়া মিয়া (৩৭), মো. মনিরুল শেখ (৩৮), মো. মানজুর মোল্লা রাঙ্গা (৪২), মো. মুক্ত শেখ (৩৭), মো. তরিকুল শেখ (৬০), মো. আকবর শেখ (৪২), মো. কিবরিয়া মোড়ল (৪০), মো. জাহাঙ্গীর শেখ ওরফে মেজ ভাই (৪৮), মো. ইউনুস শেখ ওরফে দুলাল ঠাকুর (৪০), মো. মিলাদুল মোল্লা ওরফে কালু ডাকাত (২৮), মো. মোশারেফ হোসেন (৩৭) ও মো. আল আমিন সিকদার (৫০)।
গত ৩১ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু মাস্টার বাহিনীর ১০ জন জলদস্যু ৫২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মসমর্পণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু মজনু ও ইলিয়াস বাহিনীর ১১ জন জলদস্যু ২৫টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১ হাজার ২০ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেয়।
র্যাব -৮ এর উপ-অধিনায় মেজর আদনান কবির জানান, বিশাল সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ প্রতি নিয়ত বনদস্যু বা জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হন। সুন্দরবনসহ বিতৃন্ন উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষ্যে র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে।
শওকত আলী বাবু/এএম