ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু

প্রকাশিত: ১১:৪৮ এএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৭

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কর্মরত ১ হাজার ০৫০ জন শ্রমিক তাদের চাকরি স্থায়ী করণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে।

রোববার দুপুর ১২ টায় খনির প্রধান ভূ-গর্ভের লিফটের সামনে শ্রমিক সমাবেশ করে এ অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করেন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান।

শ্রমিক সমাবেশে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক নেতা রাহেনুল ইসলাম প্রমুখ।

শ্রমিক নেতারা জানান, তারা খনির সূচনালগ্ন থেকে এ খনিতে দিন হাজিরা হিসেবে কাজ করছেন। মাত্র ৩০০ টাকা হাজিরা দরে কাজ করে তাদের সংসার চলছে না। এ কারণে তারা চাকরি স্থায়ী করণের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির প্রতি কোনো সাড়া না দেয়ায় তারা এ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

খনি শ্রমিকরা কর্মস্থানে অবস্থান ধর্মঘট শুরু কারায় খনিটি বড় রকমের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন খনি কর্তৃপক্ষ। খনিটির মাইনিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকরা যদি খনির অভ্যন্তরীণ পাম্পগুলো বন্ধ করে দেয়। তাহলে খনি ভূ-গর্ভে পানিতে ভরে যাবে। সেক্ষেত্রে খনিটি একেবারে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সে আশঙ্কা অস্বীকার করে শ্রমিক নেতারা বলছেন, খনিকে বাঁচিয়ে রাখতে তারা পাম্পগুলো সচল রাখবেন।

খনির শ্রমিকরা স্ব স্ব কর্মস্থানে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করায় খনিটি থেকে কয়লা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জানা গেছে চিনা শ্রমিকরা শুধু খনিটিতে জরুরি কাজ ছাড়া উৎপাদন কাজ করতে পারবে না। এ কারণে খনি থেকে কয়লা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আওরঙ্গজেবের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী শ্রমিকরা সকলে বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনা কোম্পানির শ্রমিক।

চুক্তির মাধ্যেমে সেই শ্রমিকদের কীভাবে সুবিধা দেয়া যেতে পারে সেই বিষয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু আলোচনার মাঝ পথে হঠাৎ তারা আন্দোলন শুরু করায় সেই আলোচনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে অতি অল্প সময়ে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা করছেন।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/আরআইপি