ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাড়া ফেলেছে ইয়ারবের গাছের পাঠশালা

প্রকাশিত: ১২:২৮ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০১৭

বিনামূল্যে বীজ বিতরণ, গাছের পাঠশালা খুলে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কীটনাশক মুক্ত শাক-সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধকরণসহ বিলুপ্ত প্রায় ৬০০ প্রজাতির ফলজ-বনজ গাছ সংরক্ষণ করেছেন সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের তুজুলপুর গ্রামের ইয়ারব হোসেন।

নাম দিয়েছেন গাছের পাঠশালা। ইতিমধ্যে এলাকায় বেশ সাড়াও ফেলেছে এ গাছের পাঠশালা। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন কেউ গাছ নিতে, কেউবা বীজ আবার কেউ পরামর্শ নিতে। অভিজ্ঞতার জন্য আসছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

satkhra

সাতক্ষীরার সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে বাড়ির আঙ্গিনায় ইয়ারব হোসেন এক বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন গাছের পাঠশালা। ২০১৬ সালের শুরু থেকেই তিনি আরম্ভ করেন গাছ সংগ্রহের কাজ। বছর না যেতেই তিনি সংরক্ষণ করছেন বিলুপ্ত প্রায় ৬০০ প্রজাতির ফলজ, বনজ, ওষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। গাছের পাঠশালা নামে খ্যাত এ বাগানটিতে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন ৭-৮জন।

তুজুলপুর গ্রামের কৃষক ইয়ারব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমি একটু ব্যতিক্রম কিছু করতে চাচ্ছি। গাছ আমাদের কি কি উপকার করে সেটা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেয়া তাছাড়া প্রাকৃতিকভাবে যে শাক-সবজিগুলো পাওয়া যায় নতুন প্রজন্ম সেগুলো অনেকেই জানে না, সেগুলো জানানো। পাশাপাশি গাছের যে গুণাগুণ সেগুলো সকলকে অবহিত করা।

satkhra

এ পর্যন্ত তিনশ প্রজাতির ঔষধি গাছ ও তিনশ প্রজাতির ফল, ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ সংগ্রহ করেছি উল্লেখ করে ইয়ারব হোসেন আরো বলেন, গাছ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। নিজস্ব খরচ ও নিজ উদ্যোগে। এখান থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করা হয়। তাছাড়া বিষমুক্ত শাক-সবজি উৎপাদনেও কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, পরিবেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, নতুন প্রজন্মকে জানানো ও শেখানোর জন্য আমি গাছের পাঠশালা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

satkhra

নিজেই ভবিষ্যতে একটি বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করে ইয়ারবের গাছের পাঠশালায় আগত পার্শ্ববর্তী এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি একটি ঔষধি গাছ নিতে এসেছি। এখান থেকে গাছ নিয়ে অনেকে উপকৃত হচ্ছে।

কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাঝে মধ্যে গাছের পাঠশালা ঘুরে দেখেন জানিয়ে শিক্ষার্থী আজমল হোসেন জানান, কোন গাছের কি গুণ এখান থেকে খুব সহজে সেটা আমরা জানতে পারছি।

satkhra

গাছের পাঠশালা এলাকায় সাড়া ফেলেছে জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ি সাতক্ষীরার কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ইয়ারব হোসেন এক বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ বিলুপ্ত প্রায় ৬০০ প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করে একটি নার্সারি স্থাপন করেছেন। এছাড়াও তিনি শাক-সবজি যেগুলো আনাচে কানাচে হয়ে থাকে সেগুলো সেখানে চাষাবাদ করছেন। যা এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিদর্শনসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

আকরামুল ইসলাম/এআরএ/পিআর