বগুড়ায় স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি : আটক ১
বগুড়ায় শনিবার সন্ধ্যায় শহরের ব্যস্ততম নিউমার্কেট এলাকায় আল-হাসান জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাসসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই শাজাহানপুর এলাকার নয়মাইল বাজার থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিসহ একজনকে আটক করে। শাজাহানপুর থানা পুলিশ মহাসড়কে বেরিকেট দিয়ে তাকে আটক করে। তবে এসময় অন্যান্যরা পালিয়ে গেছে। তবে আটকৃতের নাম বা বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
এদিকে, বগুড়া সদর থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে এ ঘটনার সময় পুলিশ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।
আল-হাসান জুয়েলার্স শহরের মেরিনা রোডে এমএ খান লেনে গোল্ডেন মার্কেটে অবস্থিত। নীচতলার এ দোকানটি মার্টেটের সম্মুখ ভাগের বেশির ভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে। দোকানের একপাশে নিউমার্কেট, পেছনে সদর থানা আর সামনে একই দূরত্বে পুলিশ ফাঁড়ি। প্রাণকেন্দ্রে সাতমাথার দূরত্বও এ দোকান থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে।
আল-হাসান জুয়েলার্সের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার পর বেচাকেনা কম থাকায় স্বর্ণালংকার গোছগাছের কাজ চলছিল। ঘটনার মাত্র ১৫ মিনিট আগে এক যুবক তাদের দোকানে আংটি কেনার জন্য আসে।সম্ভবত ওই যুবকটিই আশেপাশের পরিবেশ ও দোকানের পরিস্থিতি রেকি করে যায়। সে যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে আরো ৬/৭ যুবক দোকানে প্রবেশ করে। তারা ঢুকেই মুখোশ পরে নেয়। এরপর দোকান মালিক গুলজার রহমানের পায়ে গুলি করে। এ সময় দোকানের অন্য ৩ কর্মচারীকে বাহিরে বের করে দেয়া হয়। সেখানে অন্য একটি গ্রুপ তাদের পাহারায় রাখে।
গুলিবিদ্ধ গুলজার রহমান জানান, পায়ে গুলির পর ডাকাতরা সিন্দুক খুলে দিতে বলে। এ সময় তারা দোকানের গ্লাস ভাংচুর করে শোকেসে সাজিয়ে রাখা মালামাল বস্তায় ভরতে থাকে। সিন্দুক খুলে দিলে প্রায় ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার একই বস্তায় ভরে ফেলা হয়। এসময় তারা দোকানের সিসি টিভির ফুটেজের হার্ডডিস্কও খুলে নেয়।
এদিকে, ডাকাতি চলাকালে তাদের আরো দুইটি দল দুই ভাবে বিভক্ত হয়ে গালাপট্টি ও টেম্পল রোডে অবস্থান নেয়। গালাপাট্টি রোডের অবস্থানকারিরা ককটেলের পর হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বিকট শব্দে পুরো সাতমাথা এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠলে মুহুর্তেই বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। বোমার স্পিন্টারের আঘাতে আহত হয় জাকির হোসেন ও আনোয়ার আলী নামের আরো দুইজন পথচারি।
ডাকাতদের অন্য গ্রুপ আগে থেকেই টেম্পল রোডে একটি হাইচ মাইক্রোবাস নিয়ে তৈরি ছিলো। বস্তায় ভরা স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা গাড়িতে উঠলে মুহূর্তেই সেটি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।
লিমন বাসার/এএইচ