৩৫ শিক্ষার্থীর শিক্ষা অনিশ্চিত!
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাধ্যমিক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় চলতি বছরে ষষ্ঠ শ্রেণির ৩৫ শিক্ষার্থীর শিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিবারের। রোববার বিকেলে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাকরা সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
জামালপুর (নগরপাড়া) গ্রামের মোক্তার হোসেন জানান, তার ছেলে মাহফুজ হোসেনকে ইউয়িনের জামালপুর আর.এম বিদ্যাপীঠের ষষ্ঠ শ্রেণিতে বি-শাখায় ভর্তি করেন। স্কুল থেকে নতুন বই পাওয়ার পর দুইদিন ক্লাসও করেন।
কিন্তু ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজ উদ্দিন মাহফুজের বই রেখে ভর্তির টাকা ফেরৎ দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেন।
জামালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. হান্নান মোড়ল জানান, পিএসসি পাস করা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গতকাল তার স্কুলে পুনরায় পঞ্চম শ্রেণিকে ভর্তি হতে যায়।
এ অবস্থায় তিনি কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, জামালপুর আর.এম বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক জিপিএ-৩ পয়েন্টের নিচে থাকায় ভর্তি হওয়ার পর কয়েকদিন ক্লাস করিয়ে বই রেখে তাদের ভর্তি ফি ফেরৎ দিয়ে তাদেরকে বের করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ফারুক মাস্টার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সকালে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে তাদের অভিভাবকরা তার কাছে এমন একটি অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। পরে চেয়ারম্যান ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললেও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরে ওই শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
জামালপুর আর.এম বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মো. ফাইজ উদ্দিন বলেন, অভিভাবকরা অভিযোগ নিয়ে আপনাদের কাছে কেন গেল? সমস্যা থাকলে আমার এখানে পাঠিয়ে দেন আমি দেখবো।
তিনি আরও বলেন, জিপিএ-৩ পয়েন্টের নিচে এই স্কুলে ভর্তি করা হবে না। এটা স্কুলের সভাপতি মো. খাইরুল আলমসহ সকল সদস্যদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত।
কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর-ই-জান্নাত বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে অভিভাবকরা কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আসলে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, এটা করে থাকলে ঠিক করেনি। তবে ভর্তি ব্যাপারে কমিটি কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা ভর্তির আগেই নেয়া উচিৎ ছিল।
আব্দুর রহমান আরমান/এএম/পিআর