ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশু আতাউর

প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৭

শিশুটির বয়স সাড়ে তিন বছর। সাড়ে তিন বছর আগে সিজারের মাধ্যমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম হয় তার। হতভাগ্য আতাউর তার বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। বাবা-মায়ের কোলজুড়ে শিশুটি যখনই পৃথিবীর আলো দেখে ঠিক তখন থেকে সে অসুস্থ।

জন্মের পর থেকে নবজাতক এ শিশুটি মায়ের দুধও পান করতে পারেনি। জন্ম থেকে বিরামহীন কান্না আর খিচুনিতেই জীবন কাটছে তার। কী দুর্ভাগ্য তার! জন্মের পরপরই নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নবজাতকের হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে। আতাউরের হার্টে ৫টি ছিদ্র শনাক্ত করা হয়েছে।

এ খবরে সদ্যজাত আতাউরের অসহায় দরিদ্র বাবা-মায়ের সংসারে নেমে আসে দুশ্চিন্তার কালো ছায়া। এতটুকু শিশু, আর কত বড় রোগ! কীভাবে চলবে চিকিৎসা? একদিকে সন্তানের আহাজারি অপরদিকে চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহে উৎসের সন্ধান, এসব মিলিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন শিশুটির বাবা-মা।

শিশুটিকে নিয়ে চিন্তা করতে কাতে বাবা-মায়ের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কারণ এ চিকিৎসায় যে ব্যয়বহুল তা ইতোমধ্যে শিশুটির বাবা আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ ও মা রমেনা ইয়াসমিনকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

আতাউরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ একজন এনজিও কর্মী, মাতা রমেনা ইয়াসমিন গৃহিণী। মা’সহ দুই ছেলে সন্তান নিয়ে ৫ সদস্যের সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ।

এ অবস্থায় অসুস্থ শিশুটির চিকিৎসা চালানোর মতো ক্ষমতা তাদের নেই। শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে অসহায় বাবা-মা মৃত্যু পথযাত্রী আতাউরের চিকিৎসার দায়িত্বভার সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও হৃদয়বান মানুষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। সহযোগিতা পেলে শিশুর চিকিৎসা হবে আর না হয় হবে না। তাই তিনি সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই মুহূর্তে শিশুটিকে ওপেনহার্ড সার্জারি করাতে না পারলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

তাই স্থানীয় বিষেশজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. নূরুন্নাহার ফাতেমা শিশুটির চিকিৎসার জন্য ভারতের নারায়না হার্ডিলিয়া হসপিটালের হার্ট স্পেশালিস্ট ডা. দেবী শেঠীর কাছে রেফার্ড করেছেন।

অধ্যাপক ডা. নূরুন্নাহার ফাতেমা জানান, শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ হবে। সেই সঙ্গে খুব দ্রুত শিশুটির চিকিৎসা করাতে হবে। তা না হলে শিশুটিকে বাঁচানো যাবে না।

শিশুটির জীবন বাঁচানোর আশা আর প্রত্যাশা নিয়ে বাবা আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ ও মাতা রমেনা ইয়াসমিন শিশুটির চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন।

শিশুটিকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা : মো. আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ, হিসাব নং-৩৪২৫১০১০৭২৮৭৬, পূবালী ব্যাংক লি., করটিয়া শাখা, টাঙ্গাইল। অথবা ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর- ০১৭২৮৫০০০৬০।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/পিআর